পর্তুগালের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা হতেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এল দুটি নাম। একদিকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো—যিনি তৈরি ইতিহাসের আরও এক অনন্য অধ্যায় লেখার জন্য। অন্যদিকে দিয়োগো জোটা—যিনি আর নেই, কিন্তু থাকবেন দলের সঙ্গেই, অন্য এক পরিচয়ে।
মঙ্গলবার বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দলে জায়গা পেয়ে রোনালদো নিশ্চিত করলেন নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনা। ফুটবল ইতিহাসে এই নজির গড়া কার্যত বিরল। ৪১ বছর বয়সেও জাতীয় দলের ভরসার জায়গা হয়ে থাকা রোনালদোর সামনে হয়তো এটাই শেষ বিশ্বকাপ। আর সেই মঞ্চে তাঁর লক্ষ্য একটাই— পর্তুগালকে প্রথমবার বিশ্বকাপের শিরোপা এনে দেওয়া।
তবে দল ঘোষণার মুহূর্তটিকে শুধু ফুটবলীয় সিদ্ধান্তের মধ্যে আটকে রাখেননি কোচ রবার্তো মার্টিনেজ। প্রয়াত দিয়োগো জোটার স্মৃতিকে বিশেষ মর্যাদা দিয়ে তিনি দলের সঙ্গে প্রতীকীভাবে যুক্ত রেখেছেন প্রাক্তন এই ফুটবলারকে। মার্টিনেজের ভাষায়, দলের তালিকায় ২৭ জন ফুটবলারের পাশাপাশি রয়েছেন ‘চিরকালের জন্য একজন বাড়তি সদস্য’।
গত জুলাইয়ে স্পেনে এক মর্মান্তিক গাড়ি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ২৮ বছরের দিয়োগো জোটা। জাতীয় দলের নিয়মিত মুখ ছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যু শুধু পর্তুগাল ফুটবল নয়, গোটা ফুটবল বিশ্বকেই নাড়িয়ে দিয়েছিল।
মার্টিনেজ জানিয়েছেন, জোটাকে হারানোর ধাক্কা দল এখনও ভুলতে পারেনি। তবে সেই শোককে শক্তিতে বদল করেই এগোতে চান তাঁরা। কোচের কথায়, জোটার লড়াই করার মানসিকতা, অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর দলের প্রতি দায়বদ্ধতাই আজও অনুপ্রেরণা হয়ে রয়েছে পর্তুগাল শিবিরে। তাই বিশ্বকাপের লড়াইয়ে তাঁকে ভুলে নয়, বরং সঙ্গে নিয়েই মাঠে নামবে দল।
এবারের বিশ্বকাপ রোনালদোর কাছেও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবল ছেড়ে সৌদি প্রো লিগে যোগ দেওয়ার পর এটাই হবে তাঁর প্রথম বিশ্বকাপ। বয়স বাড়লেও প্রতিযোগিতার মানসিকতা বা সাফল্যের ক্ষুধা যে একটুও কমেনি, তা এখনও স্পষ্ট।
বিশ্ব ফুটবলে আরও একটি ঐতিহাসিক নজিরের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন রোনালদো। আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির সঙ্গে তিনিও প্রথম পুরুষ ফুটবলার হিসেবে ছ’টি আলাদা বিশ্বকাপে খেলার বিরল কৃতিত্ব অর্জনের পথে।
রোনালদোকে নিয়ে বলতে গিয়ে মার্টিনেজ তুলে ধরেছেন তাঁর দুই পরিচয়ের কথা। একদিকে তিনি বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা, কোটি মানুষের অনুপ্রেরণা। অন্যদিকে তিনি দলের অধিনায়ক, যাঁর কাছ থেকেও অন্য সবার মতোই পরিশ্রম, শৃঙ্খলা আর লড়াইয়ের মানসিকতা প্রত্যাশা করা হয়।
মার্টিনেজের বিশ্বাস, মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ড্রেসিংরুমেও নেতৃত্ব দিয়ে দলের ভিত আরও মজবুত করবেন রোনালদো।
পরিসংখ্যানও তাঁর মহত্ত্বের সাক্ষী। পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বাধিক ম্যাচ খেলা— ২২৬টি— এবং সর্বাধিক ১৪৩ গোলের রেকর্ড তাঁর দখলে। শুধু তাই নয়, পাঁচটি আলাদা বিশ্বকাপে গোল করা একমাত্র পুরুষ ফুটবলারও তিনি।
এবার সামনে আরও এক নতুন মাইলফলক। আর সেই যাত্রায় পর্তুগাল শুধু ট্রফির জন্যই লড়বে না, লড়বে স্মৃতি, আবেগ আর এক হারিয়ে যাওয়া সতীর্থের স্বপ্ন নিয়েও।
ছবি: সংগৃহীত

Social Plugin