শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই যেন আবেগের বিস্ফোরণ। গ্যালারিতে উচ্ছ্বাস, মাঠে ছুটে বেড়াচ্ছেন ফুটবলাররা, আর কিশোর ভারতী স্টেডিয়াম লাল-হলুদ আবেগে ভেসে যাচ্ছে। ২২ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে দেশের সেরা হওয়ার স্বাদ পেল ইস্ট বেঙ্গল। শুধু তাই নয়, ক্লাবের ইতিহাসে প্রথমবার ঘরে এল আইএসএল ট্রফিও।
ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিলেন মহম্মদ রশিদ। ডানদিক থেকে বিপিন সিংয়ের নিখুঁত সেন্টার, আর সুযোগ বুঝে রশিদের ডান পায়ের ঠান্ডা ফিনিশ। বল জালে জড়াতেই গর্জে উঠল কিশোর ভারতীর গ্যালারি। গোল করার পর সমর্থকদের দিকে ছুটে গিয়ে উচ্ছ্বাস ভাগ করে নিলেন তিনি। সেই মুহূর্ত যেন বহু বছরের না-পাওয়া আনন্দের প্রতীক হয়ে রইল।
বৃহস্পতিবার ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে শুরুটা কিন্তু মোটেই সহজ ছিল না। প্রথমে পিছিয়ে পড়েছিল ইস্ট বেঙ্গল। কিন্তু সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ২-১ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে নেয় অস্কার ব্রুজোর দল। ১৩ ম্যাচে ২৬ পয়েন্ট নিয়ে লিগের শীর্ষে শেষ করল তারা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে চেয়েছিল লাল-হলুদ শিবির। প্রথম ১০ মিনিটেই দু’বার গোলের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সাফল্য আসেনি। উল্টে ১৪ মিনিটে ধাক্কা খায় ইস্ট বেঙ্গল। নিজেদের অর্ধ থেকে লম্বা পাস ধরে দুরন্ত ফিনিশে গোল করে ইন্টার কাশীর আলফ্রেড। মুহূর্তে স্তব্ধ হয়ে যায় স্টেডিয়াম।
প্রথমার্ধে আরও কয়েকবার বিপজ্জনক আক্রমণ তোলে ইন্টার কাশী। তবে গোলরক্ষক প্রভসুখন গিল দুরন্ত কয়েকটি সেভ করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন। অন্যদিকে ইউসেফ এজেজ্জারিও একটি সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন।
এক গোলে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় আবার চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় রাকিপকে। ফলে পরিকল্পনায় বদল আনেন কোচ অস্কার। বিরতির আগেই আক্রমণভাগে পরিবর্তন করেন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ম্যাচের চেহারা। প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের ভুলের সুযোগ নিয়ে সমতা ফেরান ইউসেফ এজেজ্জারি। সেই গোল শুধু দলকে ফিরিয়েই আনেনি, ব্যক্তিগতভাবেও সোনার বুটের লড়াইয়ে তাঁকে এগিয়ে দিয়েছে।
ম্যাচ ১-১ হওয়ার পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে ইস্ট বেঙ্গল। কোচের একের পর এক পরিবর্তন ম্যাচের গতি বদলে দেয়। এর মাঝেই খবর আসে, অন্য ম্যাচে পিছিয়ে পড়েছে মোহন বাগান। গ্যালারিতে তখন চাপা উত্তেজনা।
তারপর এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ম্যাচের প্রায় শেষ দিকে বিপিন সিংয়ের মাপা বল খুঁজে নেয় মহম্মদ রশিদকে। সুযোগ নষ্ট করেননি তিনি। নিখুঁত শটে বল জড়িয়ে দেন জালে। আর তাতেই ইতিহাস লেখা হয়ে যায়।
শেষ বাঁশির পর কিশোর ভারতী যেন শুধু একটা মাঠ ছিল না। সেটা হয়ে উঠেছিল ২২ বছরের অপেক্ষা, কষ্ট, হতাশা আর অগণিত সমর্থকের বিশ্বাসের মিলনমঞ্চ। বহুদিন পর লাল-হলুদ শিবিরে ফিরল সেই হারিয়ে যাওয়া গর্বের অনুভূতি। এবার তারা সত্যিই দেশের সেরা।

Social Plugin