এতদিন গড়িয়াহাট ব্রিজের নীচে গাড়ি বা বাইক রাখলেই কিছু লোক এসে পার্কিং বাবদ টাকা চাইতেন। গাড়ি রাখার জন্য ঘণ্টায় ৩০ টাকা, বাইকের জন্য ২০ টাকা—এটাই যেন নিয়ম হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার থেকে সেই চেনা ছবিতে বড় বদল দেখা গেল। কলকাতা পুলিশের তরফে সেখানে ‘ফ্রি পার্কিং’ লেখা সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে। ফলে এখন থেকে ওই এলাকায় গাড়ি বা বাইক রাখার জন্য চালকদের আর আলাদা করে টাকা দিতে হবে না।
লালবাজার জানিয়েছে, কেউ যদি পার্কিংয়ের নামে টাকা দাবি করেন, তাহলে সরাসরি ১০০ নম্বরে ফোন করে অভিযোগ জানানো যাবে। অভিযোগ পাওয়ার পর আইন মেনে ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।
রাসবিহারী মোড় থেকে গড়িয়াহাটের দিকে যাওয়ার পথে ফ্লাইওভারের নীচে বহুদিন ধরেই গাড়ি রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। বাঁদিকে সিংহী প্যালেস পর্যন্ত এবং ডানদিকে গোলপার্কমুখী অংশের কিছুটা এলাকা দীর্ঘদিন ধরে শহরের অন্যতম পরিচিত পার্কিং জায়গা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। শহর এবং শহরতলি থেকে বাজার বা কেনাকাটা করতে আসা বহু মানুষ নিয়মিত এই জায়গা ব্যবহার করেন।
এতদিন অনেক চালকই মনে করতেন, কলকাতা পুরসভার নির্ধারিত পার্কিং বলেই সেখানে টাকা নেওয়া হয়। নীল পোশাক পরা কয়েকজন ব্যক্তি নিয়মিত সেই টাকা তুলতেন বলেও অভিযোগ। কিন্তু বৃহস্পতিবার সামনে আসে অন্য তথ্য। জানা যায়, জায়গাটি নাকি পুরসভার অনুমোদিত পার্কিং জোনের তালিকাতেই ছিল না। তারপরই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—তাহলে এতদিন কারা টাকা তুলছিল? কোন ভিত্তিতে এই টাকা আদায় হচ্ছিল? স্থানীয় প্রশাসনের নজরে কি বিষয়টি ছিল না?
পুলিশের দাবি, পুরসভার তরফে এ বিষয়ে আগে কোনও তথ্য তাঁদের কাছে ছিল না।
এদিকে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে বিষয়টি নিয়ে। রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ওই জায়গার ‘ফি পার্কিং’ ব্যবস্থা তুলে ‘ফ্রি পার্কিং’ চালু হয়েছে বলে দাবি বিজেপির। বৃহস্পতিবার গড়িয়াহাট ব্রিজের নীচে একাধিক জায়গায় সরকারি নির্দেশিকা এবং ‘ফ্রি পার্কিং’ বোর্ড লাগানো হয়।
নতুন নিয়ম দেখে অনেক গাড়িচালকই অবাক। আবার অনেকের মধ্যেই স্বস্তির অনুভূতি। গড়িয়াহাটে নিয়মিত বাজার করতে আসা একাধিক মানুষের বক্তব্য, এতে কিছুটা হলেও বাড়তি খরচ কমবে।
গাড়িচালক সুদর্শন মুখোপাধ্যায় বলেন, “গত বছর মেয়ের বিয়ের কেনাকাটার জন্য গড়িয়াহাটে এসেছিলাম। প্রায় সাত ঘণ্টা গাড়ি রেখেছিলাম। তখন পার্কিং বাবদ প্রায় ২০০ টাকা দিতে হয়েছিল। এখন জানতে পারছি, এতদিন যা চলেছে তা নিয়ম মেনে হয়নি।”
বৃহস্পতিবারের পর থেকে ওই এলাকায় আগের মতো পার্কিংয়ের টাকা তুলতে দেখা যায়নি কাউকে। তবে এতদিন ধরে কীভাবে এই টাকা আদায় চলল, কারা এর সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং প্রশাসনের নজর এড়িয়ে তা কীভাবে চলছিল—এখন সেই প্রশ্নই ঘুরছে শহরের নানা মহলে।

Social Plugin