চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় ইসকনের সাবেক নেতা চন্দন কুমার ধর, যিনি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী নামেও পরিচিত, তাঁর জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। বিচারিক আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে যাওয়ার বিষয়টিকেই এই সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গতকাল বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার এবং বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। চিন্ময়ের আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, মামলার সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে বলেই আদালত এই পর্যায়ে জামিন দিতে রাজি হয়নি।
এই মামলার সূত্রপাত ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বরের একটি ঘটনার পর। সেদিন চট্টগ্রাম আদালত ভবনের কাছে সংঘর্ষের মধ্যে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে। পরে কোতোয়ালি থানায় এ নিয়ে মামলা দায়ের করা হয়।
তবে শুধু এই একটি মামলা নয়, চিন্ময়ের বিরুদ্ধে হত্যা ও রাষ্ট্রদ্রোহসহ মোট আটটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী। এর মধ্যে চারটি পৃথক মামলায় দায়ের করা জামিন আবেদনের রায় আজ ঘোষণা হতে পারে। গত বৃহস্পতিবার ওই আবেদনগুলোর শুনানি শেষ হওয়ার পর হাইকোর্ট আজকের দিনটি রায়ের জন্য নির্ধারণ করেছিল।
শুনানির সময় চিন্ময়ের পক্ষে আদালতে বলা হয়, তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে রয়েছেন। আইনজীবী অপূর্ব ভট্টাচার্যের দাবি, ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর থেকে বন্দি অবস্থায় থাকায় তাঁর মক্কেল শারীরিক ও মানসিকভাবে ভুগছেন। সেই কারণেই জামিনের আবেদন জানানো হয়েছিল।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা শুরু থেকেই জামিনের বিরোধিতা করে আসছিলেন। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলরা আদালতে দাবি করেন, মামলাগুলোর গুরুত্ব এবং অভিযোগের প্রকৃতি বিবেচনা করে এই মুহূর্তে জামিন দেওয়া ঠিক হবে না।
এর আগে অবশ্য তিনটি মামলায় হাইকোর্ট এবং নিম্ন আদালত থেকে জামিন পেয়েছিলেন চিন্ময়। তবে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া একটি জামিন আদেশের ওপর পরে স্থগিতাদেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। ফলে তাঁর আইনি লড়াই এখনও বহাল রয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত

Social Plugin