ভিসা বিতর্ক মিটলেই বিশ্বকাপে ইরান, তবে শর্ত মানতে হবে সব পক্ষকেই

কয়েক মাস ধরেই অনিশ্চয়তা ছিল। নানা রাজনৈতিক টানাপোড়েন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জটিলতা আর নিরাপত্তা ইস্যুর মধ্যে ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল বারবার। তবে সেই জল্পনায় আপাতত ইতি টানল ইরান ফুটবল ফেডারেশন। রবিবার আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তারা জানিয়ে দিয়েছে, ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলতে আগ্রহী ইরান। কিন্তু সেই সঙ্গে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্তও সামনে রেখেছে তারা।

ইরানের বক্তব্য, বিশ্বকাপে অংশ নিতে তাদের কোনও আপত্তি নেই, তবে দলের ফুটবলার, কোচিং স্টাফ এবং কর্তাদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে আয়োজকদের। বিশেষ করে ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি-র সঙ্গে যুক্ত যাঁরা দলের অংশ হিসেবে কাজ করছেন, তাঁদের ভিসা নিশ্চিত করার দাবি তুলেছে ইরান।

ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট মেহদী তাজ স্পষ্ট ভাষাতেই জানিয়েছেন, জাতীয় দলের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক সদস্যের জন্য ভিসা পাওয়া বাধ্যতামূলক। শুধু ভিসা দিলেই হবে না, তাঁদের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণও করতে হবে। তাঁর কথায়, ফুটবলার থেকে শুরু করে টেকনিক্যাল স্টাফ কিংবা আইআরজিসি-র সদস্য, কাউকেই আলাদা চোখে দেখা চলবে না।

এই বিতর্কের সূত্রপাত অবশ্য নতুন নয়। কয়েক মাস আগে কানাডায় অনুষ্ঠিত ফিফা কংগ্রেসে যোগ দিতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছিলেন মেহদী তাজ। অভিযোগ, আইআরজিসি-র সঙ্গে সম্পর্ক থাকার আশঙ্কায় তাঁকে ভিসা দেয়নি কানাডা সরকার। কারণ, কানাডা ইতিমধ্যেই আইআরজিসি-কে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সেই ঘটনার পর থেকেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।

তার উপর মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি পুরো বিষয়টিকে আরও জটিল করে তোলে। এমনকি এক সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য ঘিরেও জল্পনা তৈরি হয়েছিল, আদৌ ইরান বিশ্বকাপে খেলতে পারবে কি না। যদিও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো শুরু থেকেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ইরানকে বাদ দেওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই। পরে ট্রাম্পও ইরানকে বিশ্বকাপে স্বাগত জানান।

এখন সব নজর ভিসা সংক্রান্ত সমস্যার দিকে। সেই জট কাটলে বহু বিতর্ক, রাজনৈতিক চাপ আর আন্তর্জাতিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়েই ২০২৬ বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যেতে পারে ইরানকে

  ছবি: সংগৃহীত