১৩ মে সন্ধ্যায় বেইজিংয়ে পা রাখলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিন দিনের এই রাষ্ট্রীয় সফর ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে আগ্রহ তুঙ্গে। সময়টা এমনই, যখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ছে, আর একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মতো দুই বৃহৎ অর্থনীতির সম্পর্কও ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে।
স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে প্রেসিডেন্টের বিশেষ বিমান ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বেইজিং ক্যাপিটাল বিমানবন্দরে নামে। বিমান থেকে নামার পর ট্রাম্পকে স্বাগত জানান চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং। সামরিক ব্যান্ডে বাজতে থাকে অভ্যর্থনার সুর, আর প্রায় তিনশো তরুণ-তরুণী দুই দেশের পতাকা হাতে নেড়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায়। দীর্ঘ আট বছরেরও বেশি সময় পর কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই প্রথম চীনা মাটিতে পদার্পণ।
১৪ ও ১৫ মে ধারাবাহিক বৈঠকের সূচি রয়েছে। এই সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের সপ্তমবারের মতো মুখোমুখি আলোচনা হওয়ার কথা। বেইজিংয়ের ‘গ্রেট হল অফ দ্য পিপল’-এ তাঁর সম্মানে রাষ্ট্রীয় ভোজের আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘ঝংনানহাই’ প্রাঙ্গণেও যাওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের দাপ্তরিক ও আবাসিক ব্যবস্থা।
বিমানবন্দরে ট্রাম্পকে অভ্যর্থনা জানাতে উপস্থিত ছিলেন চীনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড পারডু, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত শি ফেং এবং চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের উপমন্ত্রী মা ঝাওশু। সফরসঙ্গী হিসেবে ট্রাম্পের সঙ্গে রয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং তাঁর ছেলে এরিক ট্রাম্প ও পুত্রবধূ লারা ট্রাম্প।
সফরের আগে ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তাঁর আলোচনায় ইরান ইস্যু, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিষয় গুরুত্ব পাবে। যদিও তিনি এটাও স্পষ্ট করেন যে চলমান আন্তর্জাতিক সংঘাতে চীনের ওপর নির্ভর করার প্রয়োজন তিনি অনুভব করছেন না।
কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও কিছু ঘোষণা আসতে পারে বলে জল্পনা। ‘বোর্ড অফ ট্রেড’ এবং ‘বোর্ড অফ ইনভেস্টমেন্ট’ নামে দুটি নতুন দ্বিপাক্ষিক কাঠামো গঠনের কথা সামনে আসতে পারে, যেগুলোর লক্ষ্য হবে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিরোধ মেটানো। একই সঙ্গে বোয়িং বিমান, মার্কিন কৃষিপণ্য ও জ্বালানি খাতে চীনের সম্ভাব্য কেনাকাটার ঘোষণাও হতে পারে।
এছাড়া চলমান বাণিজ্য সংঘাতের মধ্যে যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি চলছে, তার মেয়াদ বাড়ানো নিয়েও আলোচনা হতে পারে। ট্রাম্পের আগমনকে ঘিরে বেইজিং শহরে উৎসবের আবহ চোখে পড়েছে। বিমানবন্দর থেকে শহরের প্রধান সড়ক পর্যন্ত দুই দেশের পতাকায় সাজানো হয়েছে। শহরের উঁচু ভবনগুলোতে আলোর ছটায় ফুটে উঠেছে একটাই বার্তা—‘বেইজিং স্বাগত জানাচ্ছে’।
ছবি: সংগৃহীত

Social Plugin