তপসিয়ার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ নজর কাড়ল। মঙ্গলবারের সেই আগুনে দু’জনের মৃত্যুর ঘটনার পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সংশ্লিষ্ট বহুতল ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে। অভিযোগ, কোনও অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান ছাড়াই গড়ে উঠেছিল ওই বহুতলটি।
বুধবার বিকেলেই কলকাতা পুরসভা এবং কেএমডিএ যৌথভাবে ভাঙার কাজ শুরু করে। তার আগেই ভবনটির জল এবং বিদ্যুতের সংযোগ স্থায়ীভাবে কেটে দেওয়া হয়। বেআইনি নির্মাণের সঙ্গে যুক্তদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সতর্ক করে দেন— এখনই সাবধান হওয়ার সময়।
তপসিয়ার ৫০/১বি/১ নম্বরের ওই বহুতলে একটি চামড়ার কারখানা চলত। মঙ্গলবার দুপুরে সেখানেই আগুন লাগে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুত একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। চারটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে তৈরি এই কমিটিকে পরদিন সকাল ১১টার মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
সেই রিপোর্টেই উঠে আসে একাধিক উদ্বেগজনক তথ্য। জানা যায়, বহুতলটির কোনও বৈধ বিল্ডিং প্ল্যান নেই। শুধু তাই নয়, অগ্নিনির্বাপণের ন্যূনতম ব্যবস্থাও ছিল না সেখানে। এই গাফিলতির ফলেই এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। রিপোর্ট জমা পড়ার পরই দেরি না করে অবিলম্বে ভবনটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।
নির্দেশ মতোই প্রশাসনের দল বুলডোজার, গাঁইতি, হাতুড়ি নিয়ে পৌঁছে যায় ঘটনাস্থলে। নিরাপত্তার জন্য এলাকায় মোতায়েন ছিল পুলিশ, র্যাফ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। ভাঙার কাজ শুরু হলে কিছু স্থানীয় বাসিন্দা আপত্তি জানাতে এগিয়ে আসেন, তবে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এই ঘটনার পর রাজ্যের অন্যান্য এলাকাতেও বেআইনি নির্মাণ নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। বিশেষ করে কসবা, তিলজলা, মোমিনপুর এবং একবালপুরে নজরদারি বাড়ানো হবে। অভ্যন্তরীণ অডিটের মাধ্যমে বেআইনি ভবন চিহ্নিত করে তাদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
তবে সব ক্ষেত্রে সরাসরি ভাঙার পথে না গিয়ে আগে নোটিস পাঠানোর কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী। সংশোধনের সুযোগ দিয়ে তারপর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
ছবি: সংগৃহীত

Social Plugin