শীর্ষে ওঠার সুযোগ হাতছাড়া, বেঙ্গালুরুকে থামাল গুজরাত

ম্যাচটা ছিল তালিকার একেবারে মাথায় ওঠার সুযোগ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটা আর হল না। গুজরাত টাইটান্সের কাছে ৪ উইকেটে হেরে পিছিয়েই রইল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। ৯ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানেই থাকতে হল তাদের। অন্যদিকে পাঞ্জাব কিংস এক ম্যাচ কম খেলেও শীর্ষে।

টসের পর শুরুটা দেখে মনে হচ্ছিল, বড় রান আসতে চলেছে। বিরাট কোহলি শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক। কাগিসো রাবাডার এক ওভারে পরপর বাউন্ডারি মেরে চাপটা উল্টে দেন। দু’ওভারেই স্কোর ২৭—ইঙ্গিত ভালোই ছিল। কিন্তু ক্রিকেটের মেজাজ বদলাতে সময় লাগে না। তৃতীয় ওভারেই প্রথম ধাক্কা, এরপর রাবাডা নিজেই ফিরিয়ে দেন কোহলিকে। ২৮ রান করে ফিরে গেলে হঠাৎ করেই ছন্দ কেটে যায় বেঙ্গালুরুর।

মাঝখানে রজত পাটীদার আর দেবদত্ত পাডিক্কাল কিছুটা গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। পাওয়ার প্লে শেষে রান রেটও খারাপ ছিল না। মনে হচ্ছিল, ২০০-এর কাছাকাছি যাওয়া সম্ভব। কিন্তু ঠিক তখনই আরেকটা মোড়। পাটীদার বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দেন। ক্যাচটা নিয়ে কিছুটা বিতর্কও হয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত বদলায়নি।

এরপর আর গড়াতে পারেনি ইনিংস। মিডল অর্ডার একেবারেই ভরসা দিতে পারেনি। জিতেশ শর্মা দ্রুত আউট, টিম ডেভিডও তেমন কিছু করতে পারলেন না। গুজরাতের বোলাররা বিশেষ করে স্পিনে চেপে ধরেন। রশিদ খান নিজের মতো করেই চাপ তৈরি করেন, আরশাদ খান তিনটে উইকেট তুলে নিয়ে বড় ধাক্কা দেন। ১৫৫ রানে গুটিয়ে যায় বেঙ্গালুরু।

জবাবে গুজরাতের শুরুটাও নিখুঁত ছিল না। সাই সুদর্শন তাড়াতাড়ি ফিরে যান। তবে শুভমন গিল খুব বেশি সময় নেননি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে। অল্প বলেই দ্রুত রান তুলে চাপ কমিয়ে দেন। এরপর জস বাটলার এসে কাজটা প্রায় সেরে দেন—ঝোড়ো ইনিংসে ম্যাচ একেবারে হাতের মুঠোয় এনে ফেলেন। শেষটা সহজ করে দেন রাহুল তেওয়াটিয়া।

বেঙ্গালুরুর হয়ে ভুবনেশ্বর কুমার তিনটি উইকেট নিলেও তাতে ফল বদলায়নি। ম্যাচটা হাতের মুঠোয় ছিল না হয়তো, কিন্তু লড়াইটা আরও টেনে নেওয়া যেত—সেই আক্ষেপ থাকবেই।