গোয়ার লড়াইয়ের আগে: একদিকে স্বস্তি, অন্যদিকে দুশ্চিন্তা মোহনবাগানে

গোয়ার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে মোহনবাগান শিবিরে একসঙ্গে স্বস্তি আর দুশ্চিন্তার হাওয়া। আলবার্তো ফিরেছেন, সেটাই বড় খবর। বৃহস্পতিবার পুরো দমে দলের সঙ্গে অনুশীলন করলেন স্প্যানিশ ডিফেন্ডার। দেখে মনে হচ্ছে, খুব তাড়াতাড়িই ম্যাচ ফিট হয়ে উঠবেন। পাঞ্জাব এফসির বিরুদ্ধে গোড়ালিতে চোট পেয়েছিলেন তিনি, তাই নিয়ে চিন্তা ছিল। আপাতত সেটা অনেকটাই কাটল।

কিন্তু আপুইয়াকে নিয়ে সেই নিশ্চিন্তি নেই। হ্যামস্ট্রিংয়ের সমস্যায় এখনও মাঠের বাইরে, রিহ্যাবেই সময় কাটছে। তবু টিম ম্যানেজমেন্ট আশা ছাড়ছে না। মনে করা হচ্ছে, হয়তো শেষ মুহূর্তে হলেও তিনি ফিরতে পারেন। কারণ, ৯ মে গোয়ার জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচটা কার্যত নির্ধারণ করে দিতে পারে অনেক কিছু।

মানোলো মার্কুয়েজের দলের বিরুদ্ধে নামতে গেলে আলবার্তো আর আপুইয়া—দু’জনই কতটা জরুরি, সেটা আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না। রক্ষণে আলবার্তোর উপস্থিতি দলকে আলাদা ভরসা দেয়। আর মাঝমাঠে আপুইয়া যেন একাই অনেকটা জায়গা জুড়ে থাকেন—বক্স টু বক্স দৌড়, বল কেড়ে নেওয়া, সব দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ।

৭ মে গোয়ার উদ্দেশে রওনা দেবে দল। পরের দিন সেখানেই শেষ প্রস্তুতি সেরে নেওয়ার কথা। তার মধ্যেই হিসেব-নিকেশ চলছে পয়েন্ট টেবিল নিয়েও। ৯ ম্যাচে ২০ পয়েন্ট নিয়ে মোহনবাগান ভালো জায়গায় আছে। গোয়ার পয়েন্ট ১৯, যদিও তারা একটা ম্যাচ বেশি খেলেছে। শুক্রবার জামশেদপুরের বিরুদ্ধে তাদের ম্যাচ—সেখানে যদি পয়েন্ট খোয়ায়, তাহলে বাগানের জন্য সমীকরণটা আরও সহজ হবে।

তবে মাঠে নামলে এই অঙ্ক তেমন কাজে দেয় না। গোয়ায় বিকেল পাঁচটার ম্যাচ, গরম আর আর্দ্রতা বড় ফ্যাক্টর। তার উপর ঘরের মাঠে ব্রাইসন ফার্নান্ডেজ, সন্দেশ ঝিঙ্গান, মহম্মদ নেমিলদের মতো ফুটবলাররা সব সময়ই বাড়তি চাপ তৈরি করেন। গতি আছে উদান্তা সিং আর আবদুল রবির মতো খেলোয়াড়দের।

ফতোরদা স্টেডিয়ামে এফসি গোয়া আগেও বড় দলকে আটকে দিয়েছে। তাদের পাসিং ফুটবল বেশ সংগঠিত। মাঝমাঠে সেই ছন্দ ভাঙতে পারাই হবে মূল চ্যালেঞ্জ। সের্গিও লোবেরা আর মানোলো মার্কুয়েজ—দুই স্প্যানিশ কোচের কৌশলের লড়াই নিয়েও আলাদা আগ্রহ রয়েছে।

সব মিলিয়ে, ম্যাচটা শুধু তিন পয়েন্টের নয়—এটা তালিকার লড়াই, কৌশলের লড়াই, আর কিছুটা মানসিকতারও পরীক্ষা।