দু’দিনের বিরতির পর ফের অনুশীলনে ফিরল কলকাতা নাইট রাইডার্স। সামনে কঠিন পরীক্ষা—রবিবার হায়দরাবাদে সানরাইজার্সের বিরুদ্ধে ম্যাচ। প্রতিপক্ষ এখন দারুণ ছন্দে, টানা পাঁচটা জয় তাদের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। তার উপর নিজের মাঠে খেলবে তারা, ফলে চাপটা স্বাভাবিকভাবেই বেশি থাকবে নাইটদের উপর।
তবে কেকেআরও খুব খারাপ জায়গায় নেই। লখনউয়ের বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচটা সুপার ওভারে জিতে দলটা যেন আবার ছন্দ খুঁজে পেয়েছে। অজিঙ্ক রাহানের নেতৃত্বে প্লে-অফে ওঠার আশা আবার নতুন করে মাথা তুলছে। কিন্তু হিসেবটা সোজা—এখন আর হারার জায়গা নেই। প্রতিটা ম্যাচই কার্যত ‘করো বা মরো’।
হায়দরাবাদের শক্তি মূলত তাদের ব্যাটিং। ওপেনার অভিষেক শর্মা আর ট্রাভিস হেড শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক, পাওয়ার প্লে-তেই ম্যাচের রঙ বদলে দিতে পারেন। যদি কখনও তারা ব্যর্থ হন, তখন মাঝখান থেকে হাল ধরেন ঈশান কিষান। আর হেনরিখ ক্লাসেন তো ধারাবাহিকতার দিক থেকে দলের সবচেয়ে ভরসাযোগ্য ব্যাটারদের একজন। সঙ্গে নীতীশ রেড্ডি আর সলিল অরোরা মাঝের সারিটা ধরে রাখছেন।
এই ব্যাটিং লাইনআপকে থামাতে হলে কেকেআরকে নিখুঁত পরিকল্পনা নিয়ে নামতে হবে। বিশেষ করে বোলিং বিভাগে চাপ সামলাতে হবে ঠান্ডা মাথায়। স্পিনারদের ভূমিকা এখানে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। লখনউ ম্যাচে যেমন সুনীল নারিন আর বরুণ চক্রবর্তী দারুণ বল করেছিলেন, এবারও তাদের দিকেই তাকিয়ে থাকবে দল।
অনুশীলনেও তার ইঙ্গিত মিলেছে। বৃহস্পতিবার তিন দফায় প্র্যাকটিস হয়েছে—সকাল, বিকেল আর সন্ধ্যা। আলাদা গ্রুপে ভাগ করে ক্রিকেটারদের দেখা হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, এই সেশনগুলো থেকেই সেরা পারফর্মারদের বেছে নিয়ে চূড়ান্ত একাদশ ঠিক করা হবে।
সব মিলিয়ে, লড়াইটা কঠিন ঠিকই, কিন্তু অসম্ভব নয়। এখন দেখার, মাঠে সেই পরিকল্পনাটা কতটা নিখুঁতভাবে কার্যকর করতে পারে নাইটরা।

Social Plugin