ম্যাচ তখন প্রায় শেষের পথে। নির্ধারিত সময় ফুরোতে বাকি মাত্র পাঁচ মিনিট। তার আগেই এডমুন্ডের শট জালে জড়িয়ে যেতেই বিপক্ষ শিবিরে যেন যুদ্ধজয়ের উচ্ছ্বাস। ডাগআউটে কোচ থেকে ফুটবলার, সবাই আনন্দে মেতে উঠেছেন। কিন্তু অন্য পাশে দাঁড়িয়ে মোহন বাগান কোচ সের্গিও লোবেরা তখনও আশা ছাড়েননি। তিনি বারবার ছেলেদের লড়াই চালিয়ে যেতে বলছিলেন।
শেষ পর্যন্ত সেই বিশ্বাসই কাজে দিল। ম্যাচের ৮৯ মিনিটে জেসন কামিংসের গোলে সমতা ফেরাল সবুজ-মেরুন। শেষ মুহূর্তের এই গোল শুধু ম্যাচ বাঁচাল না, আইএসএল খেতাবের লড়াইয়েও মোহন বাগানের আশা জিইয়ে রাখল।
রবিবারের ডার্বি অমীমাংসিত থাকায় গোল পার্থক্যের হিসেবে কিছুটা এগিয়ে রয়েছে ইস্ট বেঙ্গল। তবে লড়াই এখনও শেষ হয়নি, সেটাই মনে করিয়ে দিলেন লোবেরা। ম্যাচের পর তিনি বলেন, এখনই সব শেষ হয়ে যায়নি। শেষ ম্যাচে ইস্ট বেঙ্গলকে জিততেই হবে। আর যদি তারা জিততে না পারে, তাহলে আমরা জিতলেই চ্যাম্পিয়ন। তাই এখন গোল পার্থক্য নিয়ে ভাবছি না, লক্ষ্য একটাই—শেষ ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়তে হবে।
ম্যাচের সংযোজিত সময়ে আবারও নাটকীয় মুহূর্ত তৈরি হয়েছিল। ম্যাকলারেনের শক্ত শট ঠেকিয়ে নিশ্চিত গোল বাঁচান গোলরক্ষক প্রভসুখন গিল। বল জালে জড়ালে ম্যাচের ফল অন্যরকমও হতে পারত। সেই প্রসঙ্গ টেনে লোবেরা বলেন, পরিকল্পনা মতোই খেলেছে ছেলেরা। বেশ কয়েকটা সুযোগ তৈরি হয়েছিল। শেষ মুহূর্তে গোলটা হয়ে গেলে ম্যাচের ছবিটাই বদলে যেত।
তবে ডার্বিতে আবারও মাঝমাঠে সঠিক পাসদাতার অভাব ভুগিয়েছে মোহন বাগানকে। ফলে প্রথমার্ধে জেমি ম্যাকলারেনদের খুব একটা সুযোগ তৈরি হয়নি। বরং গোলরক্ষক বিশাল কাইথের ভরসাতেই ম্যাচে টিকে ছিল দল। লোবেরা জানান, ডার্বির গুরুত্ব মাথায় রেখেই দলে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছিল। ছেলেদের চেষ্টা বা লড়াইয়ে কোনও খামতি ছিল না। পিছিয়ে পড়েও তারা হাল ছাড়েনি।
তবে সামনে আরও একটা চিন্তা তৈরি হয়েছে। এদিন চতুর্থ হলুদ কার্ড দেখেছেন আলবার্তো রডরিগেজ। ফলে দিল্লি এফসি-র বিরুদ্ধে তাকে ছাড়াই দল সাজাতে হবে বাগান কোচকে।
এর মধ্যেই আরেকটি দুশ্চিন্তার খবর। ম্যাচ শেষে ক্রাচে ভর দিয়ে স্টেডিয়াম ছাড়তে দেখা যায় জেসন কামিংসকে। ফলে দিল্লির বিরুদ্ধে তার খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। লোবেরা জানিয়েছেন, আগামী দুদিন অনুশীলনে তার শারীরিক অবস্থার ওপর নজর রাখা হবে, তারপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Social Plugin