পালাবদলের পরই গতি: নতুন সরকারের শুরুতেই রেলের তিন প্রকল্পে ছাড়পত্র

রাজ্যে সরকার বদলেছে খুব বেশি দিন হয়নি। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস-কে সরিয়ে এবার শাসনভার নিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। ফলে এখন পশ্চিমবঙ্গে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের কথা শোনা যাচ্ছে চারদিকে। এতদিন যে ‘কেন্দ্রীয় বঞ্চনা’ নিয়ে সরব ছিল রাজ্য রাজনীতি, সেটাও যেন হঠাৎ করেই অতীতের বিষয় হয়ে উঠছে—এমনটাই মনে করছেন অনেকে।

এই আবহেই কেন্দ্রের তরফে বাংলার জন্য এল কিছু নতুন ঘোষণা। রেলমন্ত্রকের পক্ষ থেকে রাজ্যের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব আলাদা করে চিঠি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-কে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।

রাজ্য সরকারের দাবি, নিউ জলপাইগুড়ি থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটারের একটু বেশি অংশে ডবল লাইন তৈরির অনুমতি মিলেছে। পাশাপাশি কলকাতা থেকে রাজস্থানের জয়পুর পর্যন্ত একটি নতুন দূরপাল্লার ট্রেন চালুর কথাও জানানো হয়েছে। সাঁতরাগাছি থেকে খাতিপুরা (জয়পুর) পর্যন্ত এই এক্সপ্রেস ট্রেনটি খড়্গপুর হয়ে চলবে।

এতেই শেষ নয়। শালবনী থেকে আদ্রা পর্যন্ত প্রায় ১০৭ কিলোমিটার রেলপথে তৃতীয় লাইন বসানোর কাজও এগোচ্ছে। আপাতত এই প্রকল্পের বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরির জন্য ফাইনাল লোকেশন সার্ভের অনুমোদন দিয়েছে রেলমন্ত্রক।

রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, সরকার বদলের এত অল্প সময়ের মধ্যেই এই তিনটি প্রকল্পে ছাড়পত্র পাওয়া নিছক ঘটনাচক্র নয়। এর আগে বারবার কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ তুলেছিল রাজ্যের প্রাক্তন সরকার। তাদের বক্তব্য ছিল, রাজনৈতিক মতভেদের কারণেই বাংলার প্রকল্পগুলি বারবার আটকে দেওয়া হচ্ছে। রেলমন্ত্রককেও সেই সমালোচনার বাইরে রাখা হয়নি।

অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও চুপ করে থাকেনি। বিশেষ করে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব একাধিকবার অভিযোগ করেছেন, রাজ্যের তরফেই নানা প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হচ্ছে। জমি অধিগ্রহণ থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র—সব ক্ষেত্রেই সমস্যা হচ্ছে বলেই দাবি তাঁর।

এই টানাপোড়েনের মাঝেই নতুন সরকার গঠনের পর সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে—এবার হয়তো সেই পুরনো অচলাবস্থা কাটবে। ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের ফলে উন্নয়নের কাজ কিছুটা হলেও দ্রুত হবে, এমন আশা অনেকেরই।

নতুন অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পগুলির মধ্যে নিউ জলপাইগুড়ি-শিলিগুড়ি ডবল লাইন তৈরি হলে উত্তরবঙ্গের যাতায়াত আরও সহজ হবে। পর্যটক থেকে স্থানীয় বাসিন্দা—সবাই তার সুবিধা পাবেন। আর শালবনী থেকে আদ্রা পর্যন্ত তৃতীয় লাইন বসানো গেলে জঙ্গলমহল অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তন আসতে পারে।

সব মিলিয়ে, সরকার বদলের পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই পদক্ষেপগুলি রাজ্যের উন্নয়ন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করে দিয়েছে। এখন দেখার, এই ঘোষণাগুলি বাস্তবে কত দ্রুত রূপ পায়।