ডার্বির আগে তখন কী ভীষণ চাপ, সেটা যারা মাঠে নেমেছে তারাই জানে। চারদিক লাল-হলুদে ভরে গিয়েছিল, গ্যালারির অর্ধেকটাই যেন আমাদের। বিদেশি রেফারি ম্যাচ চালাচ্ছেন, আর মাথার মধ্যে একটাই কথা ঘুরছিল—আজ যদি সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটাতে না পারি, তাহলে সবই বৃথা।
প্রথম গোলটা এসেছিল একটু ভাগ্যের ছোঁয়াতেই। টোলগে বলটা তুলে দিয়েছিল, শিলটন ধরতে গিয়ে গড়বড় করে বসে। সামনে বল পেয়ে সুযোগটা নষ্ট করিনি। ওই গোলের পর যেন গোটা দলটাই অন্যরকম হয়ে গেল। দ্বিতীয়ার্ধে আবার সেই টোলগের ক্রস, মাথা ছুঁইয়ে বল জালে—২-০। কোচ মরগ্যান এসে জড়িয়ে ধরেছিলেন। গ্যালারির গর্জন তখন কানে বাজছে, সেই শব্দ আজও ভুলতে পারিনি।
শেষ বাঁশি বাজার পর যা হয়েছিল, সেটা শুধু ডার্বিতেই সম্ভব। সমর্থকেরা ফেনসিং টপকে মাঠে ঢুকে পড়েছিল। সেই ম্যাচের জার্সিটা এখনও যত্ন করে রেখে দিয়েছি। ডার্বির কথা উঠলেই আজও বুকের ভেতর কেমন একটা আলোড়ন হয়।
এই কারণেই বলছি, মিগুয়েলদের কাছে অনুরোধ—এই ম্যাচে নিজেদের সবটুকু দিয়ে দাও। ডার্বি মানেই নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ। ইতিহাস গড়ার মঞ্চ।
আমার মনে হয়, ইস্ট বেঙ্গল একটু হলেও মানসিকভাবে এগিয়ে। বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে শেষ মুহূর্তের গোলটা তার প্রমাণ। অন্যদিকে, ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে মোহন বাগানের খেলোয়াড়দের শরীরী ভাষা খুব আত্মবিশ্বাসী লাগেনি। কয়েকজন এখনও পুরো ফিট নয়, মাঝমাঠে বল জোগানোর লোকের অভাব স্পষ্ট। তার ওপর আপুইয়া খেলবে কি না, সেটাও অনিশ্চিত। ও না থাকলে মাঝমাঠের ভারসাম্য আরও নড়বড়ে হয়ে যাবে।
ইস্ট বেঙ্গলের দিকেও কিছু প্রশ্ন আছে। সাউল ক্রেসপো চোটে। কোচ অস্কার ব্রুজোঁ হয়তো রশিদ, জিকসন আর মিগুয়েলকে নিয়ে মাঝমাঠে ছক সাজাবেন। মিগুয়েল ছন্দে থাকলে অনেক কিছুই সম্ভব, তবে তাকে আটকাতে প্রতিপক্ষ নিশ্চয়ই বিশেষ পরিকল্পনা করবে।
আর একটা কথা—এডমুন্ডকে প্রথম একাদশে রাখা উচিত। ছেলেটা চনমনে, মাঠে নেমে দলকে চাঙা করতে পারে। ডার্বির মতো ম্যাচে এমন ফুটবলারের প্রয়োজন হয়, যে হঠাৎ করেই ম্যাচের রং বদলে দিতে পারে।
সব মিলিয়ে, আবার এক বড় লড়াই সামনে। এখানে শুধু জয়ের প্রশ্ন নয়—এটা সম্মান, আবেগ আর নিজেদের প্রমাণ করার ম্যাচ।
ছবি: সংগৃহীত

Social Plugin