বায়ার্ন মিউনিখকে টপকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে পিএসজি, দেম্বেলের গোলে বাজিমাত

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মঞ্চে আবারও নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিল প্যারিস সেন্ট জার্মেই। শুরুতেই উসমান দেম্বেলের গোল, তারপর ঠান্ডা মাথায় ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ। শেষ পর্যন্ত ১-১ ড্র করেও বায়ার্ন মিউনিখকে বিদায় জানিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে জায়গা করে নিল ফরাসি ক্লাবটি।

বুধবার সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগের ম্যাচ শুরু হতে না হতেই ধাক্কা খায় বায়ার্ন। তৃতীয় মিনিটে মাঝমাঠে ফাবিয়ান রুইজের সঙ্গে দুরন্ত ওয়ান-টু খেলে ডান দিক দিয়ে উঠে আসেন খভিচা কভারাতস্খেলিয়া। তারপর নিখুঁতভাবে বল বাড়ান দেম্বেলের দিকে। একেবারে ফাঁকায় থাকা ফরাসি তারকা কোনও ভুল না করে জোরালো শটে বল জড়িয়ে দেন জালে।

সেই গোলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের রং বদলে দেয়। কারণ ম্যাচের একেবারে শেষ দিকে হ্যারি কেন সমতা ফেরালেও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৫ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ফাইনালে উঠে যায় পিএসজি। প্রথম লেগে প্যারিসে ৫-৪ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল তারা।

এবার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ আর্সেনাল। ৩০ মে বুদাপেস্টে হবে ইউরোপ সেরার লড়াই। অন্য সেমিফাইনালে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে মিকেল আর্তেতার দল।

ম্যাচের পর পিএসজি সভাপতি নাসের আল-খেলাইফির গলায় ছিল আত্মবিশ্বাসের সুর। তাঁর কথায়, “আমরা আবার ফাইনালে। এবার লক্ষ্য দ্বিতীয় শিরোপা। ছেলেদের বলেছি, আমরা সবাই যোদ্ধা।”

গত সপ্তাহে প্রথম লেগে বায়ার্নের আক্রমণে একাধিকবার চাপে পড়েছিল পিএসজির রক্ষণ। কিন্তু এবার দৃশ্যটা ছিল একেবারে আলাদা। হ্যারি কেন, লুইস দিয়াজ ও মাইকেল ওলিসেদের নিয়ে গড়া বায়ার্নের আক্রমণভাগকে অনেকটাই আটকে রাখে পিএসজি। মাঝমাঠে ভিতিনহা, জোয়াও নেভেসদের লড়াকু ফুটবলও নজর কাড়ে।

জোয়াও নেভেস ম্যাচের পর বলেন, “চাপের মধ্যে কীভাবে লড়তে হয়, সেটা আমরা জানি। এই জায়গায় পৌঁছতে পেরে আমরা গর্বিত।”

তবে হারলেও লড়াই ছেড়ে দেয়নি বায়ার্ন। শেষ দিকে হ্যারি কেন গোল করে ম্যাচে ফেরার আশা জাগিয়েছিলেন। এই মরশুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এটি ছিল তাঁর ৫৫তম গোল। সেই সঙ্গে বায়ার্নের প্রতিটি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে অন্তত একটি গোল করার ধারাও বজায় থাকল।

বায়ার্ন কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানিও হারের পর হতাশ হলেও ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করেছেন। তাঁর কথায়, “এই মরশুমে দল অনেক উন্নতি করেছে। এখন সেই ধারাবাহিকতাই ধরে রাখতে হবে।”

ম্যাচের শুরু থেকেই মিউনিখের সমর্থকেরা গ্যালারিতে বিশাল কোরিওগ্রাফি তুলে ধরেছিলেন। বার্তা ছিল স্পষ্ট, “গোল করো, ফাইনালে ওঠো।” কিন্তু সেই স্বপ্নে জল ঢেলে দেয় পিএসজির দ্রুত গোল।

রক্ষণে বেশ কিছু ভুলও ভুগিয়েছে বায়ার্নকে। বিশেষ করে কভারাতস্খেলিয়াকে এতটা ফাঁকা জায়গা দেওয়া বড় মাশুল ডেকে আনে। বিরতির পরও পিএসজি আরও কয়েকবার ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল। দেজিরে দুয়ে ও কভারাতস্খেলিয়ার আক্রমণে ম্যানুয়েল নয়ারকে বারবার কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়।

ম্যাচে রেফারিং নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। বায়ার্নের ফুটবলাররা অভিযোগ করেন, নুনো মেন্দেসের হ্যান্ডবলের জন্য দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানো উচিত ছিল। পরে আবার ভিতিনহার শট সতীর্থ নেভেসের হাতে লাগলেও পেনাল্টি দেওয়া হয়নি। যদিও কোম্পানি পরে বলেন, এসব সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি বেশি আলোচনা করতে চান না।

ম্যাচ শেষে নয়ার স্বীকার করে নেন, পিএসজি বেশি কার্যকর ছিল। তাঁর কথায়, “ওরা সুযোগ পেলেই গোল করেছে। ফাইনালের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিলাম আমরা, কিন্তু শেষ ধাপটা পেরোতে পারিনি।”

মিউনিখ শহর অবশ্য পিএসজির জন্য সুখস্মৃতির জায়গা হয়ে উঠছে ধীরে ধীরে। গত মরশুমেও এখানেই তারা প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতে ইতিহাস গড়েছিল। এবার সেই সাফল্য ধরে রেখে টানা দ্বিতীয় ইউরোপ সেরা হওয়ার হাতছানি এখন তাদের সামনে।

 ছবি: সংগৃহীত