যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার আবহের মধ্যেই ফের নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল পশ্চিম এশিয়ায়। আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানে সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। হামলার লক্ষ্য ছিল বন্দর আব্বাস এলাকায় তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং হরমুজ প্রণালীতে মাইন বসানোর কাজে ব্যবহৃত নৌযান।
আমেরিকার দাবি, সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি ঠেকাতে আত্মরক্ষার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। পাশাপাশি তারা জানিয়েছে, এই অভিযানের ফলে চলতে থাকা যুদ্ধবিরতি বা শান্তি প্রক্রিয়ার উপর কোনও প্রভাব পড়বে না।
তবে ওয়াশিংটনের এই ব্যাখ্যা মানতে নারাজ তেহরান। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের বায়ুসেনা বিভাগের প্রধান সৈয়দ মাজিদ মুসাভি সাফ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের এই পদক্ষেপের জবাব দেওয়া হবে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই। ইরানের তরফে দাবি করা হয়েছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা একটি মার্কিন এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন গুলি করে নামানো হয়েছে। পাশাপাশি একটি আরকিউ-৪ ড্রোন এবং এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করেও হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান।
তবে সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হলেও কাতারের রাজধানী দোহায় চলা শান্তি আলোচনা নিয়ে আশাবাদী ইরানি প্রতিনিধিরা। সূত্রের খবর, আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। আমেরিকা এবং ইজরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের স্থায়ী সমাধান খুঁজতেই এই কূটনৈতিক উদ্যোগ।
মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় রয়েছে কাতার। দেশটির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিতে ইতিমধ্যেই দোহায় পৌঁছেছেন ইরানের প্রতিনিধিরা।
যদিও শান্তি প্রক্রিয়া এগোলেও চাপের রাজনীতি ছাড়ছে না কোনও পক্ষই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, ইরানের পরিশোধিত ইউরেনিয়াম হয় আমেরিকার হাতে তুলে দিতে হবে, অথবা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে তা ধ্বংস করতে হবে।
অন্যদিকে ইরানও নিজেদের শর্ত সামনে রেখেছে। তেহরানের দাবি, শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত করতে হলে আমেরিকাকে আগে প্রায় ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের স্থগিত তহবিল মুক্ত করতে হবে। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, চুক্তি স্বাক্ষরের সময় অর্ধেক অর্থ এবং বাকি অর্থ ৬০ দিনের মধ্যে ফেরত দিতে হবে।
এই টানাপোড়েনের মধ্যেই দোহায় অবস্থান করছেন ইরানের মুখ্য আলোচক, বিদেশমন্ত্রী এবং সেন্ট্রাল ব্যাংকের গভর্নর আবদুল নাসের হিম্মতি। ইরানের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আলোচনা এগোচ্ছে ঠিকই, কিন্তু আমেরিকার উপর পূর্ণ আস্থা নেই তেহরানের। সেই কারণেই প্রতিটি পদক্ষেপ অত্যন্ত সতর্কভাবে এগোচ্ছে ইরান।
যুদ্ধবিরতির আবহে কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা থাকলেও মাটির পরিস্থিতি এখনও অস্থির। ফলে পশ্চিম এশিয়ার এই সংঘাত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন নজর সেদিকেই।

Social Plugin