আফ্রিকার একাধিক দেশে ইবোলা সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সেই আবহেই উগান্ডা থেকে ভারতে ফিরে আসা ২৮ বছরের এক নারীকে বেঙ্গালুরুর একটি সরকারি হাসপাতালে পর্যবেক্ষণের জন্য আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। যদিও প্রাথমিক পরীক্ষায় তার শরীরে ইবোলা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি, তবুও সতর্কতা হিসেবে স্বাস্থ্য দপ্তর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।
সূত্রের খবর, ওই তরুণী উগান্ডা থেকে আহমেদাবাদ হয়ে বেঙ্গালুরু পৌঁছেছিলেন। মঙ্গলবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শরীরে সামান্য ব্যথার উপসর্গ থাকলেও ইবোলার গুরুতর লক্ষণ তার মধ্যে দেখা যায়নি। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।
জানা গিয়েছে, ইবোলা-আক্রান্ত অঞ্চল থেকে ভারতে ফেরার কারণে প্রথমে তাকে একটি হোটেলে রাখা হয়েছিল। পরে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ইবোলা চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
পরীক্ষার জন্য তার নমুনা পাঠানো হয়েছিল ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজিতে। সেখান থেকে আসা রিপোর্টে ইবোলা সংক্রমণের কোনও প্রমাণ মেলেনি। অর্থাৎ ওই নারীর পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এসেছে।
এদিকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, এই মুহূর্তে ভারতে ইবোলার কোনও নিশ্চিত রোগী নেই। কেন্দ্রীয় সরকার পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখছে। বিশেষ করে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে নতুন করে ইবোলা সংক্রমণের খবর সামনে আসার পর থেকেই সতর্কতা আরও বাড়ানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রকের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়মিত খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
বর্তমান সংক্রমণ পরিস্থিতির জন্য দায়ী ইবোলা ভাইরাসের ‘বান্দিবুগিও’ স্ট্রেন। এটি তুলনামূলকভাবে বিরল হলেও অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে মনে করা হয়। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরল পদার্থ—যেমন রক্ত, লালা বা অন্য শারীরিক নিঃসরণের সরাসরি সংস্পর্শে এলে এই রোগ ছড়াতে পারে। অনেক ক্ষেত্রেই সংক্রমণ প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতিমধ্যেই এই প্রাদুর্ভাবকে গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে। আফ্রিকার একাধিক অঞ্চলে দ্রুত সংক্রমণ বৃদ্ধির ফলে বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য উদ্বেগের ক্ষেত্র হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়েছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় ভারতও বিমানবন্দরগুলিতে নজরদারি বাড়িয়েছে। বিশেষ করে উগান্ডা, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গো এবং দক্ষিণ সুদানের মতো ইবোলা-প্রভাবিত অঞ্চল থেকে সরাসরি বা ট্রানজিট হয়ে আসা যাত্রীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে।
কেন্দ্রের স্বাস্থ্য নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, যাত্রীদের কারও জ্বর, বমি, অস্বাভাবিক রক্তপাত, তীব্র মাথাব্যথা বা ইবোলা আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার ইতিহাস থাকলে বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য আধিকারিকদের অবিলম্বে জানাতে হবে। উদ্দেশ্য একটাই—যাতে কোনও সম্ভাব্য ঝুঁকি দ্রুত চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

Social Plugin