পয়েন্ট তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ওঠার লড়াইয়ে নামার আগে চাপ ছিল দুই দলের উপরই। কিন্তু মাঠে নামার পর সেই চাপকে যেভাবে সামলাল গুজরাত টাইটান্স, তাতে ম্যাচটা একসময় একেবারেই একতরফা হয়ে যায়। শনিবার রাজস্থান রয়্যালসকে ৭৭ রানে হারিয়ে বড়সড় বার্তা দিল শুভমান গিলের দল। ১১ ম্যাচ শেষে গুজরাতের পয়েন্ট এখন ১৪।
এই জয়ের মঞ্চ তৈরি করে দেন দুই তারকা, শুভমান গিল এবং রশিদ খান। প্রথমে ব্যাট হাতে শুভমানের ঝোড়ো ইনিংস, তারপর বল হাতে রশিদের বিধ্বংসী স্পেল—এই দুয়ের সামনেই কার্যত ভেঙে পড়ে রাজস্থান। ২২৯ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তারা গুটিয়ে যায় মাত্র ১৫২ রানে।
শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল গুজরাত। প্রথম ওভারেই আসে ১৮ রান, আর পাওয়ার প্লে শেষ হতে স্কোরবোর্ডে কোনও উইকেট না হারিয়ে উঠে যায় ৮২। শুভমান গিল এবং সাই সুদর্শনের জুটি তখন রাজস্থানের বোলারদের দিশেহারা করে দিচ্ছে।
প্রথম উইকেটে দু’জনে যোগ করেন ১১৮ রান। সুদর্শন ৩৬ বলে ৫৫ রান করেন, মারেন ছ’টি চার এবং দু’টি ছক্কা। অন্যদিকে শুভমান ছিলেন আরও ভয়ংকর ছন্দে। শতরানের দিকেই এগোচ্ছিলেন তিনি। তবে ৪৪ বলে ৮৪ রান করে ফিরতে হয় গুজরাত অধিনায়ককে। তাঁর ইনিংসে ছিল ৯টি চার ও ৩টি ছক্কা। ব্রিজেশ শর্মাকে স্কুপ করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত আউট হন তিনি।
এই ইনিংসের পর অরেঞ্জ ক্যাপের লড়াইটাও আরও জমে উঠেছে। ১০ ইনিংসে শুভমানের সংগ্রহ এখন ৪৬২ রান। খুব কাছেই রয়েছেন সাই সুদর্শন এবং বৈভব—দু’জনেরই ৪৪০ রান।
শেষদিকে ওয়াশিংটন সুন্দর অপরাজিত ৩৭ এবং রাহুল তেওয়াটিয়ার ১৪ রানের ক্যামিও গুজরাতকে পৌঁছে দেয় ২২৯ রানে।
রাজস্থানের বোলারদের মধ্যে ব্রিজেশ শর্মা দু’টি উইকেট নিলেও সবচেয়ে বেশি নজর কাড়েন রবীন্দ্র জাদেজা। বাটলারকে আউট করার পর তাঁর উদযাপন নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও জোফ্রা আর্চার এবং তুষার দেশপাণ্ডের দিনটা একেবারেই ভালো যায়নি। দু’জনেই উইকেটশূন্য থাকেন।
ব্যাট হাতে শুরুতেই ধাক্কা খায় রাজস্থান। চোটের কারণে এদিন খেলতে পারেননি রিয়ান পরাগ। ফলে নেতৃত্বের দায়িত্ব ছিল যশস্বী জয়সওয়ালের কাঁধে। তবে ব্যাট হাতে বড় ইনিংস খেলতে পারেননি তিনিও। বৈভব কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করেছিলেন। ৩৬ রান করে যখন বিপজ্জনক হয়ে উঠছিলেন, তখন তাঁকে ফিরিয়ে দেন মহম্মদ সিরাজ।
তারপর ম্যাচ পুরোপুরি নিজের দখলে নিয়ে নেন রশিদ খান। আফগান স্পিনারের ঘূর্ণিতে একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে রাজস্থান। মাত্র ৩৩ রান খরচ করে চার উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের রাশ পুরোপুরি গুজরাতের হাতে এনে দেন তিনি।
ছবি: সংগৃহীত

Social Plugin