টানা হারের ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই, রোহিত-বিরাট দ্বৈরথে জমে উঠছে রায়পুর

মরশুমের শুরুটা যেভাবে করেছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু, তাতে অনেকেই তাদের অন্যতম ফেভারিট বলে ধরে নিয়েছিলেন। টানা চার ম্যাচ জিতে দুর্দান্ত ছন্দে ছিল বিরাট কোহলিদের দল। কিন্তু হঠাৎ করেই যেন ছন্দপতন। শেষ পাঁচ ম্যাচে তিন হার, আর টানা দু’টি পরাজয় এখন বেশ চাপে ফেলেছে গতবারের চ্যাম্পিয়নদের।

১০ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে এখনও প্লে-অফের দৌড়ে রয়েছে আরসিবি। তবে সেই জায়গা ধরে রাখতে হলে দ্রুত জয়ের রাস্তায় ফিরতেই হবে রজত পাটীদারের দলকে। তাই রবিবার রায়পুরে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে ম্যাচটা তাদের কাছে শুধু আর একটা লিগ ম্যাচ নয়, অনেকটাই ‘করো বা মরো’ পরিস্থিতির মতো।

অন্যদিকে মুম্বইয়ের অবস্থাও খুব স্বস্তির নয়। ১০ ম্যাচে মাত্র ৬ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার নিচের দিকেই রয়েছে তারা। তবে শেষ ম্যাচে লখনউ সুপার জায়ান্টসকে ৬ উইকেটে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস কিছুটা ফিরেছে হার্দিক পান্ডিয়ার দলের। সেই জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন দুই ওপেনার রোহিত শর্মা এবং রায়ান রিকেলটন। বিশেষ করে চোট কাটিয়ে ফেরা রোহিতের ৪৪ বলে ৮৪ রানের ইনিংস মুম্বই শিবিরে নতুন উদ্দীপনা এনে দিয়েছে।

তবে হার্দিক পান্ডিয়াকে নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি। পিঠের সমস্যার কারণে লখনউয়ের বিরুদ্ধে খেলতে পারেননি মুম্বই অধিনায়ক। যদিও দলের সঙ্গে রায়পুরে পৌঁছেছেন তিনি। শেষ মুহূর্তে তাঁর ফিটনেস নিয়েই নজর থাকবে।

এদিকে সদ্য বাবা হওয়া সূর্যকুমার যাদব খেলবেন বলেই জানা গিয়েছে। কিন্তু তাঁর ব্যাট এখনও সেভাবে কথা বলছে না। একই অবস্থা তিলক ভার্মারও। প্রতিভার ঝলক দেখা গেলেও ধারাবাহিকতার অভাব ভুগিয়েছে দু’জনকেই।

এই ম্যাচ ঘিরে অবশ্য সবচেয়ে বেশি আলোচনা রোহিত শর্মা বনাম বিরাট কোহলির লড়াই নিয়েই। ভারতীয় ক্রিকেটের দুই মহাতারকার মুখোমুখি সংঘর্ষ মানেই আলাদা উত্তেজনা। বিরাট কিছুদিন আগেও অরেঞ্জ ক্যাপের দৌড়ে ছিলেন। কিন্তু লখনউয়ের বিরুদ্ধে শূন্য রানে ফেরায় সেই ছন্দে খানিকটা ভাটা পড়েছে।

আরসিবির দুশ্চিন্তা আরও বাড়াচ্ছে ওপেনার জেকব বেথেল এবং জিতেশ শর্মার ধারাবাহিক ব্যর্থতা। ফিল সল্টের চোটের কারণে সুযোগ পাওয়া বেথেল এখনও পর্যন্ত চার ইনিংসে ১৪, ২০, ৫ এবং ৪ রান করেছেন। জিতেশও মিডল অর্ডারে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি।

মুম্বইয়ের বোলিং আক্রমণ কিন্তু যথেষ্ট শক্তিশালী। যশপ্রীত বুমরাহর নেতৃত্বে পেস বিভাগে রয়েছে করবিন বশ। স্পিনে গজনফার এবং উইল জ্যাকসও প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে পারেন। অন্যদিকে বেঙ্গালুরুর বোলিং অনেকটাই নির্ভর করছে ভুবনেশ্বর কুমার এবং জশ হ্যাজলউডের উপর। স্পিন সামলানোর দায়িত্বে থাকবেন ক্রুণাল পান্ডিয়া ও সুয়াশ শর্মা।

সব মিলিয়ে রায়পুরের ম্যাচে চাপ দুই দলের উপরই। তবে হার এড়ানোর তাগিদে লড়াইটা যে আরও তীব্র হবে, তা বলাই যায়।

 ছবি: সংগৃহীত