রাজনৈতিক লড়াইয়ের কেন্দ্রে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হার, আর ২০২৬-এ জায়গা বদল হলেও ফল বদলাল না। এ বার লড়াইয়ের কেন্দ্র ছিল ভবানীপুর, কিন্তু সেখানেও শুভেন্দুর কাছেই পরাস্ত হলেন তিনি। ফলাফল পুরোপুরি ঘোষণার আগেই সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের গণনাকেন্দ্র ছেড়ে বেরিয়ে যান মমতা। বাইরে এসে ক্ষোভ লুকোননি—বিজেপির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন। এমনকি দাবি করেন, গণনাকেন্দ্রের ভিতরে সিআরপিএফের উপস্থিতিতেই তাঁকে ধাক্কা দেওয়া হয়েছে।
শেষ রাউন্ড ঘিরে বিতর্ক: ইভিএম নিয়ে তোপ মমতার
ভোটগণনার একেবারে শেষ পর্বে এসে পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুললেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি ইভিএমে কারচুপির অভিযোগ করেছেন তিনি। তৃণমূলের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ফোনালাপেই নিজের ক্ষোভ আর অভিযোগ স্পষ্ট করে দেন মমতা। তাঁর দাবি, ষোলোতম রাউন্ড পর্যন্ত তিনি এগিয়েই ছিলেন। বাকি ছিল মাত্র চার রাউন্ড, আর সেই সময়েই ব্যবধান আরও বাড়ার কথা ছিল। বিশেষ করে ৭৩ ও ৮২ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলের ভোট শক্তিশালী—সেখান থেকেই এগিয়ে থাকার আশা ছিল। কিন্তু ঠিক সেই সময়েই পরিস্থিতি বদলে যায় বলে অভিযোগ। মমতার কথায়, “ওই চারটে রাউন্ডের সময় বিজেপি লোকজন নিয়ে গণনাকেন্দ্রে ঢুকে পড়ে। আমাকে ধাক্কা দেওয়া হয়, মারধরও করা হয়। সিআরপিএফকে সামনে রেখে ইভিএম মেশিন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।” এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাকেও কাঠগড়ায় তুলেছেন মমতা। তাঁর সাফ কথা, এই ফলকে তিনি স্বাভাবিক জয়ের ফল হিসেবে মানতে রাজি নন। “এটা জেতা নয়, পুরো বিষয়টাই অনৈতিক। কমিশন নোংরা খেলা খেলেছে,”—এভাবেই ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। একই সঙ্গে জানান, তাঁদের কাছে প্রমাণ রয়েছে এবং এই ফলকে চ্যালেঞ্জ জানানো হবে। রিটার্নিং অফিসারের কাছেও লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাঁর। এদিকে, মঙ্গলবার কালীঘাটে সাংবাদিক বৈঠক ডেকেছে তৃণমূল। সেখান থেকে মমতা পুরো বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলতে পারেন। ভবানীপুরের ভোটগণনা নিয়ে তাঁর পরবর্তী অবস্থান কী হয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।
এখন দেখার, এই পরিস্থিতিতে মমতার পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়। বিকেল চারটেয় কালীঘাটের বাড়িতে তিনি সাংবাদিক বৈঠক ডাকছেন—সেখানে কী বলেন, সেটাই এখন সবার নজরে।
ছবি: সংগৃহীত

Social Plugin