রাজনীতি নয়, ফুটবল—ইরানকে নিয়েই বিশ্বকাপের মঞ্চে বার্তা দিলেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো

ফিফা কংগ্রেসে বক্তব্য রাখতে উঠে শুরুতেই স্পষ্ট বার্তা দিলেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো—সব বিতর্ক, টানাপোড়েন সত্ত্বেও বিশ্বকাপে খেলবে ইরান। শুধু তাই নয়, ম্যাচগুলো হবে যুক্তরাষ্ট্র-এর মাটিতেই।

ইনফান্তিনোর কথায়, বিষয়টা নাকি খুব সোজা—“আমাদের একসঙ্গে থাকতে হবে, মানুষকে একত্রিত করতে হবে।” কথাগুলো শুনতে আদর্শের মতো লাগলেও, বাস্তব ছবিটা কিন্তু এতটা সরল নয়। মাঠের বাইরে যে চাপটা তৈরি হয়েছে, তা ক্রমেই বাড়ছে।

এই সপ্তাহেই তার একটা ঝলক দেখা গেছে। কানাডা-য় ঢুকতে দেওয়া হয়নি ইরান ফুটবল ফেডারেশনের কয়েকজন কর্মকর্তাকে। বিষয়টা সামনে আসার পর অনিতা আনন্দ জানান, তাঁর জানা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্টদের প্রবেশ আটকে দেওয়া হয়েছে। খবর অনুযায়ী, ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ-সহ কয়েকজনকে টরন্টো বিমানবন্দর থেকেই ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

তার আগেও ভ্যাঙ্কুভারে হওয়া এশিয়ান ফুটবল কংগ্রেসে ইরানকে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল বটে, কিন্তু খোলাখুলি কোনও সিদ্ধান্ত বা আলোচনা হয়নি। তবে চাপ যে রয়েছে, তা অস্বীকার করা যাচ্ছে না।

ফিফা কংগ্রেসের দিনেও অস্বস্তিটা ধরা পড়েছে। উপস্থিত দেশগুলোর নাম ডাকার সময় ইরানের নাম ঘোষণার পর তাদের ‘অনুপস্থিত’ বলা হয়। বাইরে তখন অল্প সংখ্যক বিক্ষোভকারী, হাতে ইরানের পতাকা—ছোট ঘটনা হলেও বার্তাটা স্পষ্ট।

এর মধ্যে ইরানের পক্ষ থেকে একটা প্রস্তাবও উঠেছিল—যুক্তরাষ্ট্রের বদলে তাদের ম্যাচগুলো মেক্সিকো-তে সরিয়ে নেওয়া যায় কি না। কিন্তু ফিফা সেই অনুরোধ মানেনি। অবস্থান একটাই—সূচি বদলাবে না।

আগামী ১১ জুন শুরু হতে চলা বিশ্বকাপ, ফাইনাল ১৯ জুলাই। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা আর মেক্সিকো—এই তিন দেশ মিলেই আয়োজন করছে এবারের আসর।

সব মিলিয়ে, বল গড়ানোর আগেই উত্তাপ বেশ চড়া। এখন দেখার, মাঠের লড়াই কি শেষ পর্যন্ত এই বাইরের টানাপোড়েনকে ছাপিয়ে যেতে পারে।