শেষের আগে শেষ লড়াই: মুম্বই বনাম লখনউ

প্লে-অফের হিসেব-নিকেশে যখন বেশিরভাগ দল ডুবে, তখন মুম্বই ইন্ডিয়ান্স আর লখনউ সুপার জায়ান্টস নামছে একেবারে অন্য লড়াইয়ে—তালিকার একেবারে তলায় পড়ে যাওয়ার লজ্জা এড়াতে। দু’দলের অবস্থাই এমন যে, এখন আর শুধু জেতা নয়, সম্মান বাঁচানোই যেন বড় লক্ষ্য।

নয় ম্যাচ খেলে হার্দিক পান্ডিয়ার মুম্বইয়ের ঝুলিতে মাত্র চার পয়েন্ট। অবস্থান নবম। ঠিক তাদের পেছনেই লখনউ, এক ম্যাচ বেশি খেলে একই পয়েন্ট নিয়ে দশম স্থানে। আজকের ম্যাচটা তাই দুই দলের কাছেই ‘ডু অর ডাই’ না হলেও, খুব কাছাকাছি কিছু একটা। লখনউ জিতলে আবার প্লে-অফের আলোটা ক্ষীণভাবে দেখা যেতে পারে, কিন্তু মুম্বই হারলে তাদের পথ প্রায় বন্ধ বললেই চলে।

মুম্বইয়ের সমস্যার তালিকা ছোট নয়। রোহিত শর্মা চোটে বাইরে থাকায় ব্যাটিংয়ের ভিতটাই নড়বড়ে। ওপেনিং জুটি ঠিক মতো দাঁড়াতেই পারছে না, যতই পরীক্ষা-নিরীক্ষা হোক, ফল মিলছে না। তার ওপর হার্দিক আর সূর্যকুমার যাদব—দুই ভরসার নামই ফর্মের বাইরে। ফলে ব্যাটিংয়ে ধার নেই। বোলিংয়েও সেই পুরোনো আগুনটা দেখা যাচ্ছে না, বিশেষ করে বুমরাহ নিজের ছন্দে নেই। সব মিলিয়ে দলে কিছু বদল আনা দরকার বলেই মনে হচ্ছে, কিন্তু কোচ মাহেলা জয়বর্ধনে আদৌ সে পথে হাঁটবেন কি না, সেটাই প্রশ্ন।

অন্যদিকে, লখনউয়ের অবস্থাও খুব একটা আলাদা নয়। টানা পাঁচ ম্যাচ হেরে দলটা এখন পুরো চাপে। কাগজে-কলমে শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন-আপ—আইডেন মার্করাম, মিচেল মার্শ, ঋষভ পন্থ—সবাই আছেন, কিন্তু কেউই ধারাবাহিক নন। পন্থ নিজেও প্রত্যাশা মতো খেলতে পারছেন না। নিকোলাস পুরান গত মরশুমে ঝড় তুললেও, ব্যাটিং অর্ডারে বদলের পর সেই ধারটা হারিয়েছেন। ফলে ব্যাটিংটা বেশ এলোমেলোই লাগছে।

বোলিংয়ে অবশ্য কিছুটা ভরসা আছে। মহম্মদ সামি অভিজ্ঞতার জোরে নিয়মিত উইকেট তুলছেন। গত ম্যাচে পাঁচ উইকেট নেওয়া মহসিন খান আর প্রিন্স যাদব তাঁর সঙ্গে থাকলে পেস আক্রমণ খারাপ নয়। স্পিনে দিগ্বেশ রাঠি এখন দলের অন্যতম ভরসা।

সব মিলিয়ে, আজকের ম্যাচে শুধু পয়েন্ট নয়—আত্মসম্মান, ছন্দ আর ভবিষ্যতের আশা—সবকিছুই বাজি রাখা আছে দুই দলের সামনে।