ভোটের দিনেও বাংলার আলাপচারিতা যে কোথায় গিয়ে ঠেকে, সেটা বোঝা যায় এমন ছোট ছোট মুহূর্তেই। বুথের সামনে দাঁড়িয়ে এক ইস্ট বেঙ্গল সমর্থকের সঙ্গে দেখা—খোঁজখবরের মাঝেই হঠাৎ প্রশ্ন, “এবার কি আইএসএলটা জিতবে?” এই একটাই বাক্য যেন সব বলে দেয়। ফুটবল এখানে শুধু খেলা নয়, অভ্যাস, আবেগ, প্রায় নেশার মতো।
এই মুহূর্তে ইস্ট বেঙ্গলের অবস্থাও এমন—স্বপ্ন আছে, তবে তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে কঠিন হিসেব। ৯ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট, সামনে এখনও চারটে ম্যাচ। ভুলের জায়গা নেই বললেই চলে। এখন থেকে প্রতিটা ম্যাচই কার্যত ফাইনাল। যদি এই বাধা পেরোনো যায়, তাহলে লাল-হলুদে রঙিন হয়ে উঠবে লেসলি ক্লডিয়াস সরণি—এটা ভেবে সমর্থকেরা এখন থেকেই একটু একটু করে আশায় বুক বাঁধছেন।
গোয়ার নেহরু স্টেডিয়ামে ওড়িশার বিরুদ্ধে জয়টা নিঃসন্দেহে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। দলকে অনেক বেশি সংগঠিত দেখিয়েছে, বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে। বিপিন, বিষ্ণুদের খেলায় গতি ছিল, ছন্দ ছিল। তবে এখানেই একটা সাবধানবার্তা রাখা জরুরি—ওড়িশা আর মুম্বই এক মাপের দল নয়। মুম্বইয়ের আক্রমণভাগ অনেক বেশি ধারালো, আর তাদের উইং দিয়ে ওঠার গতি আলাদা করে চোখে পড়ে।
এই জায়গাটাতেই কোচ অস্কারকে একটু ভেবে এগোতে হবে। তিন ডিফেন্ডার নিয়ে খেলাটা হয়তো ঝুঁকির। বিশেষ করে যখন প্রতিপক্ষের কাছে ছাংতে বা বিক্রমপ্রতাপের মতো দ্রুত উইঙ্গার আছে। বরং চার ডিফেন্ডারের সেটআপে দলকে অনেক বেশি স্বচ্ছন্দ লাগে—৪-৫-১ বা ৪-৪-২, এই ধরনের ফর্মেশনে মাঝমাঠও শক্ত থাকে, ডিফেন্সও চাপ সামলাতে পারে।
আর একটা ব্যাপার চোখে পড়ে—অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা এখন বন্ধ করাই ভালো। সময়টা এমন, যেখানে প্রতিটা পয়েন্টের দাম অনেক। এখানে বাড়তি ঝুঁকি নেওয়ার সুযোগ নেই। দল নির্বাচন থেকে শুরু করে বদলি—সব কিছুতেই একটু বেশি সতর্ক হওয়া দরকার।
জেরির উদাহরণটাই ধরা যাক। ট্রান্সফার উইন্ডোতে আনা হয়েছিল, কিন্তু এতদিন তাকে দেখা যায়নি। ওড়িশার বিরুদ্ধে অল্প সময় পেয়েই নিজের সামর্থ্য দেখিয়েছে। এই ধরনের ছোট ছোট সিদ্ধান্তই অনেক সময় ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে।
ইউসেফের কথাও আলাদা করে বলতে হয়। একজন স্ট্রাইকার যখন গোল পায়, তখন তার আত্মবিশ্বাস অন্য জায়গায় পৌঁছে যায়। তাই মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই তাকে খেলানো হলে সেটা দলের জন্য লাভজনকই হতে পারে।
সব মিলিয়ে পরিস্থিতিটা সরু দড়ির ওপর হাঁটার মতো। সামান্য ভুলে ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে, আবার ঠিকঠাক পা ফেললে সামনে খুলে যেতে পারে বড় দরজা। সমর্থকেরা স্বপ্ন দেখছেন—এবার দেখার, দল সেই স্বপ্ন কতটা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।

Social Plugin