ক্যারিক কি শুধু অন্তর্বর্তী কোচ? ম্যান ইউনাইটেডে প্রশ্নটা এখন আরও জোরালো

এই গ্রীষ্মে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যা-ই হোক, একটা কথা মাইকেল ক্যারিক নিশ্চয়ই বলতে পারেন— সুযোগ পেলে তিনি নিজেকে প্রমাণ করার কোনও জায়গা ফাঁকা রাখেননি।

অন্তর্বর্তী দায়িত্ব নিয়ে যে ভাবে দলকে টেনে তুলেছেন, তাতে স্থায়ী কোচ হওয়ার দাবিটা আর নিছক আবেগের জায়গায় নেই, সেটা এখন বাস্তব আলোচনার বিষয়। ক্লাবের সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি, স্যার জিম র‌্যাটক্লিফ, ওমর বেরাদা, জেসন উইলকক্স সময় নিয়ে এগোচ্ছেন। কিন্তু ক্যারিক নিজের কাজ দিয়ে দরজায় কড়া নাড়ছেন, সেটা অস্বীকার করার উপায় নেই।

১৩ ম্যাচে ৯ জয়, এই পরিসংখ্যানই অনেক কথা বলে। তার থেকেও বড় কথা, যে দল জানুয়ারিতে দিশাহীন ছিল, সেই দল এখন চ্যাম্পিয়ন্স লিগের টিকিটের দোরগোড়ায়।

ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ব্রেন্টফোর্ডের বিরুদ্ধে ২-১ জয় যেন ক্যারিকের ইউনাইটেডের সংক্ষিপ্ত প্রতিচ্ছবি। আক্রমণে ছন্দ, সাহস, গতি— সব ছিল। আবার রক্ষণে কিছু পরিচিত ভঙ্গুরতাও চোখে পড়েছে। এই দল এখনও নিখুঁত নয়, কিন্তু বদল যে এসেছে, সেটা স্পষ্ট।

সম্ভাব্য ৩৯ পয়েন্টের মধ্যে ২৯ পয়েন্ট তুলে এনে ইউনাইটেডকে সপ্তম থেকে তৃতীয় স্থানে তুলে আনা ছোট সাফল্য নয়। বিশেষ করে এমন এক মৌসুমে, যেখানে একসময় দলটাকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের দৌড়ের বাইরেই ধরে নেওয়া হচ্ছিল।

এখন বাকি চার ম্যাচে দু’পয়েন্ট পেলেই ইউরোপের বড় মঞ্চে ফেরা প্রায় নিশ্চিত। আর এই জায়গায় পৌঁছনোর কৃতিত্বে ক্যারিকের নাম না নিলে অবিচারই হবে।

মজার ব্যাপার, এই সাফল্যের মধ্যেও ক্যারিক নিজে খুব মাটিতেই পা রেখে কথা বলছেন। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ওঠার সম্ভাবনা নিয়ে উচ্ছ্বাসে ভাসছেন না। বরং মনে করিয়ে দিচ্ছেন, এটুকুই শেষ গন্তব্য নয়, কাজ এখনও অনেক বাকি।

এই পরিণতিটাই হয়তো অনেকের নজর কাড়ছে। শুধু ফল নয়, ক্যারিকের ব্যবস্থাপনা, দলের সঙ্গে যোগাযোগ, চাপের মুহূর্তে সংযম— সব মিলিয়ে তিনি যেন বলছেন, তিনি শুধু সাময়িক সমাধান নন।

প্রশ্নটা এখন তাই অন্য জায়গায়। ইউনাইটেড কি নতুন কাউকে খুঁজবে, নাকি যিনি ভিতর থেকে দলকে বদলাতে শুরু করেছেন, তাঁর হাতেই দায়িত্ব তুলে দেবে?

এই মুহূর্তে অন্তত একটা কথা বলা যায়— মাইকেল ক্যারিক নিজের দাবিটা মাঠে প্রতিষ্ঠা করেছেন। বাকিটা এখন ক্লাবের সিদ্ধান্ত।