গোয়ার সবুজে প্রস্তুতি, ইস্টবেঙ্গলের সামনে এখন জিততেই হবে

গোয়ার সালভাদরের ছবির মতো সুন্দর মাঠে ইস্টবেঙ্গলের অনুশীলন চলল ঠিকই, কিন্তু সেই মন ভালো করা পরিবেশের আড়ালেও চাপ স্পষ্ট। কারণ সামনে ওড়িশা ম্যাচ, আর এই মুহূর্তে লাল-হলুদের কাছে সেটা প্রায় নকআউট লড়াই।

অস্কার ব্রুজোঁর ভাবনায় সবচেয়ে বড় ধাক্কা রক্ষণ নিয়ে। কার্ড সমস্যায় মিগুয়েল নেই, তার উপর অনোয়ারের খেলা নিয়েও ধোঁয়াশা। জাতীয় দলের দায়িত্বে গিয়ে পেশিতে চোট পেয়েছিলেন তিনি, বেঙ্গালুরু ম্যাচেও দ্বিতীয়ার্ধে তুলে নিতে হয়েছিল। মঙ্গলবার সকালে শেষ মুহূর্তের ফিটনেস পরীক্ষা দেখে তবেই সিদ্ধান্ত হবে তিনি নামবেন কি না।

অনোয়ার খেললে তিন ডিফেন্ডারের ছকে নামতে পারেন ব্রুজোঁ। না হলে রক্ষণ সাজাতে নতুন করে ভাবতে হবে। রশিদও সদ্য চোট কাটিয়ে ফিরছেন, তাঁকে কতটা ব্যবহার করা যাবে সেটাও ম্যাচ পরিস্থিতির উপর নির্ভর করছে। সব মিলিয়ে চোট-আঘাতে খুব স্বস্তিতে নেই দল।

তবু অস্কার অজুহাতের আশ্রয় নিতে চাইছেন না। গোয়া যাওয়ার আগে তাঁর বার্তা ছিল একটাই— তিন পয়েন্ট চাই, যেভাবেই হোক।

কারণ পয়েন্ট টেবিলের অঙ্ক এখন খুব স্পষ্ট। আট ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে ইস্টবেঙ্গল এমন জায়গায় দাঁড়িয়ে, যেখানে এই ম্যাচ জিতলে চার নম্বরে উঠে আসার সুযোগ। শুধু তাই নয়, খেতাবের লড়াইয়েও টিকে থাকা যাবে।

প্রতিপক্ষ ওড়িশার ফর্ম অবশ্য খুব একটা ভয় ধরানো নয়। আট ম্যাচে মাত্র ৬ পয়েন্ট। তবে কাগজে দুর্বল বলে এই দলকে হালকা নেওয়ার সুযোগ নেই। অমরিন্দার, রহিম আলি, দেলগাডোর মতো অভিজ্ঞরা আছে। আর ইস্টবেঙ্গলের নিজের ইতিহাসও খুব সুখকর নয়, তুলনায় দুর্বল দলের বিরুদ্ধে হোঁচট খাওয়ার নজির কম নেই।

সেই কারণেই সাউল, বিপিনদের বারবার সতর্ক করছেন কোচ। বিশেষ করে ম্যাচের শুরুটা ভালো করা নিয়ে তাঁর জোর বেশি। প্রথম গোল পেয়ে গেলে চাপ অনেকটাই কমে যায়, এই বাস্তবতা তিনি জানেন।

এই ম্যাচে গতিশীল ফুটবলারদের ভূমিকা বড় হতে চলেছে। বিপিন, বিষ্ণু, এডমুন্ডদের দৌড় আর গতি ম্যাচের রং বদলাতে পারে। সামনে ইউসেফের পাশে সোয়বার্গকে খেলানোর ভাবনাও আছে।

তবে গোল করার জায়গাটাই এখন চিন্তার। ইউসেফের সাত গোল রয়েছে ঠিকই, কিন্তু সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে ধারটা যেন একটু কমেছে। সেই জায়গা থেকেই অনেকের মত, ডেভিড বা জেসিনের মতো তরুণদের আরও সময় দেওয়া উচিত।

আরেকটা বাড়তি বাস্তবতাও আছে। বাংলায় নির্বাচনের জন্য যুবভারতীর বদলে গোয়ায় খেলতে হচ্ছে ইস্টবেঙ্গলকে। ঘরের মাঠের সুবিধা নেই, ফলে মানসিক দৃঢ়তা আরও জরুরি।

সব মিলিয়ে এই ম্যাচ শুধু আরেকটা লিগ ম্যাচ নয়, অনেকটাই পরীক্ষার মতো। চোট আছে, চাপ আছে, অঙ্ক আছে। কিন্তু সেই সব হিসেবের বাইরে গিয়ে এখন ইস্টবেঙ্গলের সামনে মূল কথা একটাই— জিততে হবে। অন্য কিছু ভাবার সময় নেই।