পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে পড়তে পারে কি? জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, যুদ্বের তীব্রতা বাড়লে আর একমাসের বেশি স্থায়ী হলে জ্বালানি সঙ্কট দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে এলপিজি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হতে পারে। যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজের চলাচল বন্ধ হলে রান্নার গ্যাস সরবরাহে সমস্যা তৈরি হতে পারে। কারণ ভারতের জ্বালানি আমদানির একটি বড় অংশই এই পথ দিয়ে আসে।
বর্তমানে ভারত প্রতিদিন প্রায় ১৯৫ মিলিয়ন মেট্রিক স্ট্যান্ডার্ড কিউবিক মিটার (mmscmd) গ্যাস আমদানি করে, যার মধ্যে প্রায় ৬০ mmscmd আসে কাতার থেকে। সরবরাহের ঝুঁকি মাথায় রেখে সরকার গ্যাস সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য অন্য পথে সরবরাহ বজায় রাখার চেষ্টা করছে।
সূত্র আরও জানিয়েছে যে বিশ্বব্যাপী এলএনজি (LNG) সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ কাতার থেকে আসে। কাতারএনার্জি ‘ফোর্স মাজর’ (force majeure) ঘোষণা করেছে, যা একটি চুক্তিগত বিধান—এর মাধ্যমে সরবরাহকারী তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা অসাধারণ পরিস্থিতির কারণে সাময়িকভাবে চুক্তির দায়িত্ব স্থগিত বা কমাতে পারে।
গেইলের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন , বর্তমানে দেশে প্রায় ৩ সপ্তাহের এলপিজি মজুত রয়েছে। তবে নির্ধারিত জাহাজ দেরিতে পৌঁছালে এবং আতঙ্কে মানুষ আগেভাগে সিলিন্ডার বুকিং শুরু করলে এই মজুত দ্রুত কমে যেতে পারে। তাই অযথা মজুত না করার জন্য সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করেছেন।
অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডা ভারতকে গ্যাস সরবরাহ করার প্রস্তাব দিয়েছে, কারণ পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে ভারত বিকল্প জ্বালানি উৎস খুঁজছে—এমনটাই সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে।
সরকারি সূত্র আরও স্পষ্ট করেছে যে পেট্রোল বা ডিজেল রেশন করার কোনো পরিকল্পনা নেই। তারা পুনরায় জানিয়েছে যে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর জন্য সারা দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে। জনসাধারণের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।
Social Plugin