CAA কি সত্যি বাঁচাবে SIR এ বাতিল মতুয়াদের


 উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়াসহ একাধিক জেলায় মতুয়া সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষের নাম এই তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে, অথবা অনেকের নাম এখনও ‘বিবেচনাধীন’ পর্যায়ে রাখা হয়েছে। নাগরিকত্বের অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের মাঝে এই ঘটনা মতুয়াদের মধ্যে নতুন করে নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। CAA কি সত্যি এইসব মতুয়াদের পক্ষে রক্ষাকবচ হয়ে উঠবে? রাজনীতি যাই বলুক আইন কিন্তু তা বলছে না।

SIR-এর কাজ চলাকালীন সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে মতুয়ারা নাগরিকত্ব না পেলে ভোটাধিকার পাবে না। আসলে পরোক্ষে সুপ্রীম কোর্ট জানিয়েছে মতুয়ারা ভারতের নাগরিক নয়। এই রায় মতুয়া সম্প্রদায়কে বিপাকে ফেলেছে। কারণ CAA-তে আবেদনের প্রধান শর্ত ছিল ধর্মীয় বা অন্যান্য নিরাপত্তাহীনতার কারণে ভারতে আসা মানুষকে নিজেদের অনুপ্রবেশকারী হিসেবে স্বীকার করে নিতে হবে।
আপাতদৃষ্টিতে বিষয়টিকে গুরুত্বহীন মনে হলেও তার মধ্যে নিহিত এই শর্তই যে বিপদ ডেকে আনার পক্ষে যথেষ্ট। কারণ এই ক্ষেত্রে ভারতীয় 'ফরেনার্স এক্ট' লাগু হবে। মনে রাখতে হবে শরণার্থী এবং অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে মূল পার্থক্য হল; প্রথমটায় জেনেভা কনভেনশনে (১৯৫১) সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত মোতাবেক আন্তর্জাতিক আইনের সাহায্যে শরণার্থীদের স্বার্থ অনেকটাই সুরক্ষিত। কিন্তু অনুপ্রবেশকারীদের ক্ষেত্রে সেই সুরক্ষা নেই। প্রতিটি রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেই অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের আইনি ব্যবস্থার নেবার সুযোগ আছে। তবে CAA তে বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে আগত কয়েকটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে কিছু সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকলেও তা প্রতিষ্ঠা করার দায় সংশ্লিষ্ট পক্ষের উপর ন্যস্ত থাকায় তা সমস্যার কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে।
কারণ ২০১৯ সালের CAA আইনে  ৩১. ০৩. ২০১৪ পর্যন্ত (যা পরে বর্ধিত হয় ৩১.১২.২৪ পর্যন্ত) যে সকল হিন্দু, জৈন, পার্শি, শিখ, বৌধ ও খ্রিস্টান ধর্মালম্বী মানুষেরা ভারতে এসেছেন তাদের ক্ষেত্রে প্রামাণ্য হিসেবে যে তথ্যগুলি চাওয়া হয়েছে তার মধ্যে প্রধান হল - Proof of Religious Identity and Nationality from Afghanistan, Bangladesh and Pakistan। সেই সাথে চাওয়া হয়েছে Visa / Immigration Stamp on Arrival, Registration Certificate (FRO/FRRO) প্রভৃতি। যদিও আরও নানা ধরনের অন্যান্য প্রমাণ দাখিলের সুযোগ আছে তবে সেগুলি প্রাথমিক প্রমাণ হিসেবে গ্রাহ্য নয়। উল্লেখিত প্রমাণগুলির ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিষয় আছে যেগুলি অন্য দেশগুলির সহযোগিতার উপর নির্ভরশীল।
এই প্রশ্নগুলির সাথে আর একটা প্রশ্ন জড়িয়ে আছে; যারা অবৈধ পথে কোনোরকমে এই দেশে এসে আশ্রয় নিয়েছেন তাদের কী হবে। তারা একাধারে সহায়সম্বলহীন অবস্থায় এই দেশে এসেছেন; তাদের অনেকেরই উল্লিখিত প্রমাণপত্র থাকারও কথা নয়।