ঋতুরাজের ব্যাটে জয় চেন্নাই সুপার কিংসের, মুম্বই আবার ধাক্কায়

শনিবারের ম্যাচটা শেষ পর্যন্ত একপেশেই হয়ে গেল। ঋতুরাজ গায়কোয়াড় যেভাবে ব্যাটটা সামলালেন, তাতে চেন্নাই সুপার কিংস-এর জেতাটা সময়ের অপেক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ৬৭ রানের ইনিংসটা দেখতে যতটা সহজ মনে হয়েছে, ভিতরে ততটাই পরিমিত আর পরিকল্পিত। পাঁচটা চার, দুটো ছয়—কিন্তু তার চেয়েও বড় কথা, কখন গতি বাড়াতে হবে আর কখন থামতে হবে, সেটা একদম ঠিকঠাক ধরেছেন।

টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ১৫৯ তোলে সাত উইকেটে। এই আইপিএলে যে হারে রান উঠছে, তাতে এই স্কোর যে খুব নিরাপদ নয়, সেটা প্রথম থেকেই বোঝা যাচ্ছিল। শুরুটা খারাপ ছিল না—নমন ধীর আর রায়ান রিকেলটন মিলে একটা জুটি গড়েছিলেন, ১০ ওভারে স্কোর ৯০ পেরিয়ে যায়। তখন মনে হচ্ছিল বড় কিছু হতে পারে।

কিন্তু ঠিক সেখানেই খেলা ঘুরে যায়। শেষ ১০ ওভারে মুম্বইয়ের ব্যাটিং যেন হঠাৎ থমকে গেল। সূর্যকুমার যাদব আবারও শুরুটা করেও বড় ইনিংস গড়তে পারলেন না। তিলক ভার্মা খুব দ্রুত আউট। আর অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া—তাঁর ব্যাটিং দেখে যেন চাপটাই বেশি চোখে পড়ল, ২৩ বলে ১৮ রানে থেমে গেলেন। একমাত্র নমন ধীরের ৫৭ রানই কিছুটা লড়াইয়ের রঙ এনে দেয়।

চেন্নাইয়ের বোলাররা কিন্তু সুযোগটা ছাড়েনি। অংশুল কাম্বোজ আর নুর আহমেদ দু’জন মিলে ম্যাচটা মাঝখানেই টেনে নেন নিজেদের দিকে।

১৬০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই একটা ধাক্কা খায় চেন্নাই—জসপ্রিত বুমরাহ ফিরিয়ে দেন সঞ্জুকে। কিন্তু তারপর আর খুব বেশি নাটক হয়নি। ঋতুরাজ ছিলেনই, সঙ্গে কার্তিক শর্মার ৫৪ রানের ইনিংস ম্যাচটা পুরোপুরি সিএসকের দিকেই ঘুরিয়ে দেয়। মাঝপথে উর্বিল প্যাটেল আউট হলেও তাতে কোনও প্রভাব পড়েনি।

শেষমেশ ১১ বল বাকি থাকতেই ম্যাচ পকেটে পুরে নেয় চেন্নাই। মুম্বইয়ের জন্য চিন্তা কিন্তু বাড়ছেই—ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতা নেই, বড় নামগুলোও বারবার ব্যর্থ। অন্যদিকে চেন্নাই, খুব বেশি ঝলকানি না থাকলেও, নিজের কাজটা ঠিকঠাক করে যাচ্ছে।