ইরানে যুদ্ধের ছায়া ঘনাচ্ছে? ওয়াশিংটনের পদক্ষেপে বাড়ছে সন্দেহ

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আবারও অস্বস্তিকর দিকে মোড় নিচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নটাই এখন ঘুরে ফিরে আসছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইসরায়েল-এ বিপুল পরিমাণ যুদ্ধসামগ্রী পাঠানো হয়েছে—সংখ্যাটা প্রায় ৬,৫০০ টন। এই খবর সামনে আসতেই নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে, তাহলে কি ইরান-কে ঘিরে বড় কিছু পরিকল্পনা চলছে?

এই জল্পনার পেছনে আরও একটা কারণ আছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড, অর্থাৎ CENTCOM, সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে একটি বিস্তারিত ব্রিফিং দিয়েছে। প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে চলা ওই আলোচনায় ইরান নিয়ে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের খুঁটিনাটি উঠে এসেছে বলেই জানা যাচ্ছে। একই সময়েই ইসরায়েলে এই বিপুল সামরিক সরঞ্জাম পৌঁছনোর খবর সামনে আসায়, দুই ঘটনার যোগসূত্র খুঁজছেন অনেকেই।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, সমুদ্রপথে আসা দুটি জাহাজ এবং একাধিক বিমানে করে এই সরঞ্জাম পৌঁছেছে। শুধু অস্ত্রই নয়, সামরিক ট্রাক, বিশেষ ধরনের হালকা কৌশলগত যান—সব মিলিয়ে একটা বড়সড় প্রস্তুতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। পুরো বিষয়টা সমন্বয় করেছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বিভিন্ন শাখা, সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের মিশনও ছিল সক্রিয়।

সংখ্যাটা আরও বড় হয়ে ওঠে যখন সামগ্রিক হিসেবটা দেখা হয়। ইরান-সংক্রান্ত উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইসরায়েল প্রায় ১ লক্ষ ১৫ হাজার টনেরও বেশি সামরিক সরঞ্জাম পেয়েছে। নিয়মিত বিমান ও জাহাজে করে এই সরবরাহ চলেছে, যা স্পষ্টতই দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির দিকেই ইঙ্গিত করছে।

এদিকে আরেকটি সম্ভাব্য পরিকল্পনার কথাও সামনে এসেছে। হরমুজ প্রণালীর একটা অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে এনে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আবার স্বাভাবিক করার চিন্তাভাবনা করছে ওয়াশিংটন। তবে এমন কোনও পদক্ষেপ নিতে গেলে শুধু নৌবাহিনী নয়, স্থলবাহিনীর অংশগ্রহণও লাগতে পারে—যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।

ওয়াশিংটনের কৌশল আপাতত চাপ বাড়ানোর দিকেই। ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ বজায় রেখে তেহরানকে কোণঠাসা করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু কূটনৈতিক পথ যদি শেষমেশ ব্যর্থ হয়, তাহলে সামরিক বিকল্পও যে একেবারে উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না, সেটাও স্পষ্ট।

অন্যদিকে, মাসুদ পেজেশকিয়ান ইতিমধ্যেই সতর্ক করেছেন। তাঁর কথায়, আলোচনার টেবিলে বসে থাকলেও হামলার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ইরানের আস্থা যে তলানিতে ঠেকেছে, সেটাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো-র সঙ্গে কথোপকথনেও সেই একই সুর শোনা গেছে—কূটনীতি চললেও পরিস্থিতি মোটেও নিশ্চিন্ত নয়।

সব মিলিয়ে, কথাবার্তা আর কূটনীতির আড়ালে যেন অন্য এক হিসেব কষা চলছে। ঠিক কী হতে চলেছে, তা এখনই বলা কঠিন, কিন্তু অস্বস্তিটা যে বাড়ছে, সেটা আর অস্বীকার করার উপায় নেই।

 ছবি: সংগৃহীত, প্রতীকী ও এআই সহায়তায় প্রণীত