টানা তিনটে হার মাথায় নিয়ে মাঠে নেমেছিল দিল্লি ক্যাপিটালস। চাপটা ছিল স্পষ্ট। কিন্তু জয়পুরে গিয়ে সেই চাপই যেন উলটে শক্তিতে পরিণত হল। ২২৬ রান তাড়া করে রাজস্থান রয়্যালস-কে হারিয়ে অবশেষে জয়ের মুখ দেখল তারা।
এই দলটার সমস্যা একটাই—কখন কী করবে, আগে থেকে বোঝা দায়। এক ম্যাচে পাহাড়প্রমাণ রান করেও হেরে যায়, পরের ম্যাচেই আবার ভেঙে পড়ে। কিন্তু এ দিন অন্য গল্প। বড় রান তাড়া করে ম্যাচ জেতানোর আত্মবিশ্বাস দেখাল তারা, আর সেই কাজটা সামনে থেকে করলেন লোকেশ রাহুল।
প্রথমে ব্যাট করে রাজস্থান তুলেছিল ২২৫। তার মধ্যে রিয়ান পরাগ-এর ৯০ রানের ইনিংস আলাদা করে চোখে পড়ার মতো। সঙ্গে শেষ দিকে ডোনোভান ফেরেরা-র ঝোড়ো ৪৭। মাঝপথে উইকেট পড়লেও রান তোলার গতি কিন্তু থামেনি।
তবে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় দ্বিতীয় ইনিংসে। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে নামেন পাথুম নিসঙ্ক আর রাহুল। পাওয়ার প্লে-তেই ৭০ রান তুলে দিল্লিকে এগিয়ে দেন। নিসঙ্কের ৬২ রানের ইনিংসটা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ম্যাচের ঠিক আগে পর্যন্ত তিনি খেলবেন কি না, সেটাই নিশ্চিত ছিল না।
দু’জনের মধ্যে ১০০-র বেশি রানের জুটি হয়ে গেলে ম্যাচ অনেকটাই হাতের মুঠোয় চলে আসে। নিসঙ্ক আউট হওয়ার পরও রাহুল গতি ধরে রাখেন। ৪০ বলে ৭৫ রান করে দলকে জয়ের খুব কাছে পৌঁছে দেন তিনি।
এর মধ্যে অবশ্য কিছু নাটকও কম ছিল না। ম্যাচের শুরুতেই মিচেল স্টার্ক-এর বিরুদ্ধে নামার সুযোগই পেল না তরুণ বৈভব সূর্যবংশী। পরে নামলেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেনি। আর তাকে আউট করার পর অতিরিক্ত উল্লাস নিয়েও কিছুটা বিতর্ক তৈরি হয়।
রাজস্থানের ইনিংসে পরাগ-জুরেলের জুটি ম্যাচটাকে অন্য দিকে নিয়ে যাচ্ছিল। পরাগের ব্যাটে যেন চাপা রাগের বহিঃপ্রকাশ—প্রতি ওভারে বড় শট, কিন্তু বেপরোয়া নয়। তবে দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে স্টার্ক এক ওভারেই ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন। পরাগ ও রবীন্দ্র জাডেজা—দু’জনকেই ফিরিয়ে দেন তিনি। তাতেই রান তোলার গতি খানিকটা থেমে যায়।
শেষ দিকে ফেরেরা আবার ঝড় তুললেও, ততক্ষণে ম্যাচের রাশ অনেকটাই দিল্লির দিকে চলে এসেছে।
শেষ ৪ ওভারে ৪২ রান দরকার ছিল। হাতে উইকেট ছিল, ক্রিজ়ে ছিলেন ট্রিস্টান স্টাবস ও আশুতোষ শর্মা। দু’জনেই ঠান্ডা মাথায় খেলাটা শেষ করে দেন। অযথা ঝুঁকি না নিয়ে হিসেবি ব্যাটিং—আর তাতেই জয় নিশ্চিত।
সব মিলিয়ে, দোলাচলের মধ্যে থাকা দিল্লি এ দিন অন্তত দেখাল, বড় ম্যাচে নিজেদের সামলাতে তারা জানে।

Social Plugin