মে দিবসেই অদ্ভুত এক ছবি দেখা গেল মহামেডান স্পোর্টিং-এর মাঠে। ফুটবলারেরা উপস্থিতই হলেন না অনুশীলনে। কারণটা খুব একটা ঘুরিয়ে বলার নয়—মাসের পর মাস বেতন না পাওয়ার ক্ষোভ।
ক্লাবের আর্থিক পরিস্থিতি যে ভাল নয়, সেটা নতুন কিছু নয়। কিন্তু এখন সেই টানাপোড়েন সরাসরি মাঠে এসে পড়েছে। একদিকে আইএসএলে টিকে থাকার লড়াই, অন্যদিকে পকেট ফাঁকা—এই অবস্থায় ফুটবল খেলাই যেন প্রশ্নের মুখে।
দলের কোচ মেহরাজউদ্দিন ওয়াডু-র কথাতেই সেই হতাশার ছবি স্পষ্ট। তিনি নিজেই বলছেন, কার কত মাসের বেতন বাকি, তার হিসেব রাখা মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। কারও তিন মাস, কারও পাঁচ, কারও তারও বেশি। এমন অবস্থায় ফুটবলারেরা অনুশীলনে না আসার সিদ্ধান্ত নিলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।
শুক্রবার অনুশীলনের সময় মাঠে এসে কার্যত একাই দাঁড়িয়ে ছিলেন ওয়াডু। এই দৃশ্য নতুন নয়—গত বছরও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল ক্লাবকে। নানা বাধা পেরিয়ে এ বার আইএসএলে নামলেও, সমস্যার মূলে যে কোনও বদল আসেনি, সেটা আরও একবার পরিষ্কার হয়ে গেল।
মাঠের পারফরম্যান্সেও তার প্রভাব পড়ছে। টানা কয়েকটা ম্যাচ হারের পর লিগ তালিকার একেবারে নীচে জায়গা মহামেডানের। যদিও শেষ দু’টি ম্যাচে কিছুটা লড়াইয়ের ঝলক দেখা গিয়েছিল, তবু সামনে পথ কঠিনই। বাকি ম্যাচগুলোর মধ্যে অন্তত দু’টি জিততে না পারলে অবনমন এড়ানো কঠিন।
এই অবস্থায় অনুশীলন বন্ধ হয়ে যাওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। কোচের আশঙ্কা, যে ছন্দটা একটু ফিরছিল, সেটাও নষ্ট হয়ে যাবে।
ওয়াডু আশা করছেন, ৪ মে-র মধ্যে অন্তত বকেয়ার একটা অংশ মিটতে পারে। তা হলে হয়তো ফুটবলাররা আবার অনুশীলনে ফিরবেন। কিন্তু তার আগে পর্যন্ত অনিশ্চয়তা কাটছে না।
গোলরক্ষক কোচ শুভাশিস রায়চৌধুরী-ও মনে করছেন, ক্লাব কর্তাদের সামনে এসে কথা বলা উচিত ছিল। তাতে হয়তো পরিস্থিতি এতটা গড়াত না।
সব মিলিয়ে, মাঠের বাইরের সমস্যা এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর সেই চাপটাই ধীরে ধীরে খেলার ওপরও পড়ছে। এখন দেখার, এই অচলাবস্থা কবে কাটে।

Social Plugin