ম্যাচটা এমনভাবে শুরু হয়েছিল, যেন ফল আগেই ঠিক হয়ে গেছে। শুরুতেই গোল, তারপর আরেকটা, তারপর আরও একটা—ইন্টার মায়ামি তখন পুরো নিয়ন্ত্রণে। লিওনেল মেসি নিজে গোল করলেন, আবার সতীর্থকেও দিয়ে করালেন। স্কোরবোর্ডে ৩-০, আর খেলার গতি দেখে মনে হচ্ছিল, এখান থেকে ফেরার পথ নেই অরল্যান্ডো সিটির। কিন্তু ফুটবল মাঝে মাঝে এমন গল্প লিখে, যেটা বিশ্বাস করা কঠিন।
ম্যাচের চার মিনিটেই ইয়ান ফ্রে এগিয়ে দেন মায়ামিকে। এরপর ২৫ মিনিটে তেলাস্কো সেগোভিয়ার গোলে ব্যবধান বাড়ে—এই গোলটার পেছনে মেসির অবদান স্পষ্ট। ৩৩ মিনিটে নিজেই দারুণ এক ফিনিশে স্কোরলাইন ৩-০ করেন তিনি। এই পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাক, বরং মায়ামির দিকেই পুরো ম্যাচ হেলে ছিল। তারপর যেন হঠাৎ করে সব বদলে গেল।
অরল্যান্ডো সিটি ধীরে ধীরে খেলায় ফিরে আসে। মার্টিন ওহেদা একে একে তিনটি গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন। মায়ামির ডিফেন্স তখন ছন্নছাড়া। খেলা যখন শেষের দিকে, তখন স্টপেজ টাইমে টাইরেস স্পাইসারের গোল—৪-৩। ম্যাচটা হাতছাড়া হয়ে গেল একেবারে চোখের সামনে।
এই হারের পর একটা প্রশ্ন ঘুরছে—মেসির দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এমন বিপর্যয় কি আগে কখনো দেখা গেছে?
পরিসংখ্যান বলছে, অন্তত এভাবে নয়। তিন গোল এগিয়ে থেকেও হার—মেসির সিনিয়র ক্যারিয়ারে এটা প্রথম। এমনকি আগে কখনো তিন গোলে এগিয়ে থেকে ড্রও করেনি তার কোনো দল। সেদিক থেকে দেখলে, এটা নিঃসন্দেহে বিরল এক ঘটনা।
তবে বড় মঞ্চে ধাক্কা তিনি আগে দেখেননি, তা নয়। বার্সেলোনার জার্সিতে খেলতে গিয়ে দুটো ম্যাচ এখনো আলাদা করে মনে পড়ে। ২০১৮ সালে এএস রোমার বিপক্ষে প্রথম লেগে ৪-১ জয়ের পরেও রোমে গিয়ে ৩-০ হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল। তারপরের বছর লিভারপুল মাঠে ৩-০ লিড নিয়েও শেষ পর্যন্ত ৪-০ হার—সেই ম্যাচটা তো এখনো আলোচনায় আসে।
তবে পার্থক্যটা এখানেই—সেগুলো ছিল দুই লেগের লড়াই, মোট স্কোরের হিসাব। কিন্তু অরল্যান্ডোর বিপক্ষে এই ম্যাচটা একেবারে সামনে সামনে ভেঙে পড়ার গল্প। যেখানে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রেখেও শেষ পর্যন্ত কিছুই ধরে রাখা গেল না।
তাই এটাকে মেসির সবচেয়ে খারাপ হার বলা ঠিক হবে কি না, তা নিয়ে তর্ক থাকতেই পারে। কিন্তু এটুকু নিশ্চিত—এই ম্যাচটা তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে অস্বস্তিকর স্মৃতিগুলোর মধ্যে জায়গা করে নেবে।

Social Plugin