ভোটের দিন মানুষের অংশগ্রহণের কথা তুলে ধরে তিনি কৃতজ্ঞতা জানালেন: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

বাংলার ভোটটা এ বার যেন একেবারেই অন্য মাপের হয়ে উঠেছিল। একদিকে গোটা কেন্দ্রীয় ক্ষমতার মেশিনারি—প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী থেকে শুরু করে একাধিক মুখ্যমন্ত্রী, সঙ্গে বিপুল আধাসেনা আর সাঁজোয়া বাহন। আর অন্যদিকে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষ—হাওয়াই চটি পায়ে, প্রখর রোদ মাথায় নিয়েও ভোটের লাইনে।

দু’দফার ভোটেই নজির ভাঙা উপস্থিতি দেখে অনেকেই ধরে নিয়েছিল, বদল আসবেই। পদ্ম শিবিরে তখন থেকেই আশার হাওয়া। শেষ দফার ভোটের পর ‘এক্সিট পোল’ সেই আশাকে আরও উসকে দেয়। সমাজমাধ্যমে সমর্থকদের একাংশও তখন বেশ আক্রমণাত্মক, ফল প্রকাশের দিন নিয়ে হুঁশিয়ারি, এমনকি হুমকির সুরও শোনা যাচ্ছিল।

এই আবহেই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভিডিও বার্তায় আত্মবিশ্বাসী সুরে জানালেন, চিন্তার কিছু নেই—সরকার গড়বে তাঁর দলই। ভোটের দিন মানুষের অংশগ্রহণের কথা তুলে ধরে তিনি কৃতজ্ঞতা জানালেন। বললেন, এত রোদ, এত চাপের মধ্যেও মানুষ যেভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছেন, তা মাথা নত করে সম্মান জানাবার মতো। একই সঙ্গে দলীয় কর্মী-সমর্থকদেরও ধন্যবাদ, যারা নানা চাপের মধ্যেও লড়াই চালিয়ে গেছেন।

শুধু কৃতজ্ঞতা নয়, সতর্কবার্তাও দিয়েছেন তিনি। স্ট্রংরুম আর গণনাকেন্দ্র নিয়ে কড়া নজর রাখতে বলেছেন, যেন কোথাও কোনও গাফিলতি না হয়।

এই লড়াইকে তিনি দেখছেন একেবারে সরাসরি সংঘর্ষ হিসেবে—কেন্দ্রীয় শক্তির বিরুদ্ধে বাংলার মানুষ। তাঁর কথায়, এত নেতা, এত বাহিনী, এত ক্ষমতা দেখানোর পরও শেষ কথা বলেছে মানুষই। যারা বাংলাকে চাপে ফেলতে চেয়েছিল, তারা উল্টে নিজেরাই চাপে পড়েছে—এমনটাই দাবি তাঁর।

এক্সিট পোল নিয়ে প্রশ্ন তুলতেও ছাড়েননি তিনি। তাঁর মতে, এগুলো পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে, যাতে কর্মীদের মনোবল ভেঙে দেওয়া যায়। এমনকি সংবাদমাধ্যমকে চাপ দিয়ে এই সমীক্ষা করানো হয়েছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, বাস্তবে ফল সম্পূর্ণ উল্টো হবে—দল দুইশোর গণ্ডি ছাড়িয়ে যেতে পারে।

শেষ দফার ভোট নিয়ে অভিযোগও কম নয়। আধাসামরিক বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছেন তিনি। দাবি করেছেন, বিভিন্ন জায়গায় বিনা কারণে সাধারণ মানুষকে মারধর করা হয়েছে—মহিলা, বৃদ্ধ, এমনকি শিশুরাও রেহাই পায়নি। তাঁর অভিযোগ, ভোটের আগের রাতেও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল, যাতে কর্মীরা ভোট দিতে না পারেন।

সবশেষে কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা পরিষ্কার—শান্ত থাকতে হবে, সংযত থাকতে হবে, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া চলবে না। তবে অন্যায় কিছুই ভোলা হবে না—সময় মতো জবাব দেওয়া হবে।

এই ভোট তাই শুধু সংখ্যা বা আসনের লড়াই নয়। একদিকে রাষ্ট্রশক্তি, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জেদ—এই টানাপোড়েনেই তৈরি হয়েছে বাংলার এবারের রাজনৈতিক গল্প।