মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা বাড়ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত অভিযোগ তুলেছে, ইরান তাদের ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। সোমবারের এই ঘটনাকে ঘিরে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠছে।
আমিরাতের দাবি, দেশের পূর্বাঞ্চলের ফুজিরাহতে একটি তেল শোধনাগারে আগুন ধরে যায়। এই ঘটনায় তিনজন ভারতীয় নাগরিক আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রথম সরাসরি এমন হামলার অভিযোগ উঠল, বিশেষ করে এপ্রিলের শুরুতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতির পর।
ঘটনাটা এমন সময় ঘটল, যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীতে আটকে থাকা তেলবাহী জাহাজগুলিকে নিরাপদে বের করে আনার উদ্যোগ নিয়েছেন। হরমুজ প্রণালী এখন বিশ্বের অন্যতম সংবেদনশীল জ্বালানি পরিবহন পথ, যা ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে কার্যত অচল হয়ে রয়েছে।
এদিকে ইরানের সামরিক নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই সতর্ক করেছে—যুক্তরাষ্ট্র যদি ওই প্রণালীতে ঢোকার চেষ্টা করে, তাহলে তার ফল ভালো হবে না। সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, এমন কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা আক্রমণ হিসেবে ধরা হবে।
আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দিনভর আকাশে টানটান পরিস্থিতি ছিল। তাদের দাবি, ১২টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, তিনটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং চারটি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনাকে ‘উস্কানিহীন’ ও ‘সন্ত্রাসমূলক’ বলে কড়া ভাষায় নিন্দা জানিয়েছে। তাদের মতে, এই হামলার লক্ষ্য ছিল সাধারণ নাগরিক অবকাঠামো।
একই সঙ্গে আমিরাত স্পষ্ট করে দিয়েছে, নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে তারা কোনওরকম আপস করবে না। প্রয়োজনে পাল্টা জবাব দেওয়ার অধিকারও তাদের রয়েছে।
অন্যদিকে ইরান সরাসরি দায় স্বীকার করেনি। তাদের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি একটি সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, তেল স্থাপনায় হামলার কোনও পরিকল্পনা তাদের ছিল না। বরং এই পরিস্থিতির জন্য তারা যুক্তরাষ্ট্রের ‘ঝুঁকিপূর্ণ সামরিক পদক্ষেপকেই’ দায়ী করছে।
সব মিলিয়ে, হরমুজকে ঘিরে টানাপোড়েন আবারও নতুন করে মাথাচাড়া দিচ্ছে—যার প্রভাব শুধু এই অঞ্চলে নয়, গোটা বিশ্বের জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে।
ছবি: সংগৃহীত

Social Plugin