পিছিয়ে থেকেও দাপুটে প্রত্যাবর্তন, মুম্বইকে হারিয়ে শিরোপার লড়াইয়ে জোরালো ইঙ্গিত ইস্টবেঙ্গলের

মুম্বইয়ের মাঠে শুরুটা মোটেই সহজ ছিল না। প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে ইস্টবেঙ্গল বুঝিয়ে দিল, তারা লড়াই ছাড়ার দল নয়। এই জয়ে আইএসএল শিরোপার দৌড়ে নিজেদের জায়গাটা আরও মজবুত করল লাল-হলুদ শিবির।

খেলার শুরু থেকেই মুম্বই সিটি অনেক বেশি আগ্রাসী ছিল। ইস্টবেঙ্গল তখন কিছুটা হিসেবি ফুটবল খেলছিল। সেই সুযোগেই ৮ মিনিটে ব্র্যান্ডনের গোলে এগিয়ে যায় মুম্বই। প্রথমার্ধে আরও কয়েকটা ভালো সুযোগ পেয়েছিল তারা, কিন্তু সেগুলো কাজে লাগাতে না পারায় ব্যবধান বাড়েনি। বিশেষ করে ছাংতের মিসগুলো পরে বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়।

দ্বিতীয়ার্ধে চিত্রটা পুরো পাল্টে যায়। পিছিয়ে থেকেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে নেয় ইস্টবেঙ্গল। ৫৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে সমতা ফেরান ইউসেফ এজেজ্জারি। বক্সের মধ্যে মিগুয়েলকে ফাউল করায় এই সুযোগ পায় দল। আত্মবিশ্বাসী শটে গোল করে মরসুমে নিজের গোলসংখ্যা দশে পৌঁছে দেন তিনি।

তার কিছুক্ষণ পরেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন নন্দকুমার। বাঁদিক থেকে দারুণ এক শটে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। এরপর দু’দলই সুযোগ পেয়েছে, কিন্তু গোল হয়নি। শেষদিকে মুম্বইয়ের একটি জোরালো শট বারে লেগে ফিরে না এলে ম্যাচের ফল অন্যরকমও হতে পারত।

এই জয়ের ফলে ১০ ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে ইস্টবেঙ্গল। সমান পয়েন্ট থাকলেও জামশেদপুর একটি ম্যাচ বেশি খেলেছে। খুব কাছেই রয়েছে মোহনবাগানও। ফলে শিরোপার লড়াই এখন বেশ জমে উঠেছে।

এই ম্যাচে একটা বিষয় স্পষ্ট—প্রথমার্ধে যে দলটা কিছুটা ছন্নছাড়া ছিল, দ্বিতীয়ার্ধে তারাই একেবারে অন্য চেহারায় মাঠে নামে। কোচ অস্কার ব্রুজোর বদলগুলো এখানে বড় ভূমিকা নেয়। মিগুয়েল, এজেজ্জারি ও শৌভিককে নামানোর পর খেলার গতি বদলে যায়। মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ ফিরে আসে, আক্রমণও ধারালো হয়।

মিগুয়েলের উপস্থিতি আবারও বোঝাল, তিনি ছন্দে থাকলে দলের খেলাই অন্যরকম হয়ে যায়। একইভাবে নন্দকুমারের পারফরম্যান্সও চোখে পড়ার মতো। গতবার যিনি তেমনভাবে নজরে আসেননি, এ বার নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করছেন।

তবে সবকিছু নিখুঁত ছিল না। সাউলকে তুলে নেওয়ার পর কিছুটা চাপে পড়ে যায় দল। মাঝমাঠে বলের দখল হারানোর প্রবণতাও চোখে পড়ে। মুম্বই সেই সুযোগে বারবার আক্রমণে ওঠে, কিন্তু ভাগ্যও সেদিন ইস্টবেঙ্গলের পক্ষেই ছিল।

সব মিলিয়ে, কঠিন ম্যাচ থেকে তিন পয়েন্ট তুলে এনে আত্মবিশ্বাস বাড়াল ইস্টবেঙ্গল। সামনে এখনও কয়েকটি ম্যাচ বাকি। এই ছন্দ ধরে রাখতে পারলে, বহু প্রতীক্ষিত শিরোপা এবার হাতছানি দিতেই পারে। আর যদি কলকাতার দুই প্রধানই শেষ পর্যন্ত শিরোপার লড়াইয়ে টিকে থাকে, তা হলে বাংলা ফুটবলের জন্য এর থেকে ভালো মুহূর্ত আর কী হতে পারে।