গণনা কেন্দ্র নিয়ে টানাপোড়েন, শীর্ষ আদালতে স্বস্তি পেল কমিশন, চাপে তৃণমূল

গণনা কেন্দ্রের দায়িত্বে কারা থাকবেন—এই প্রশ্নে আদালতের দরজায় গিয়েও তেমন স্বস্তি জুটল না তৃণমূলের। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিল তারা, কিন্তু আপাতত সেই পথে হাঁটল না আদালত।

শনিবার বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি পি এস নরসিমার বেঞ্চে জরুরি শুনানি হয়। সব শুনে আদালত জানায়, এই মুহূর্তে কোনও নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে না। নির্বাচন কমিশন নিজের নির্দেশিকা মেনেই কাজ চালাতে পারবে। একই সঙ্গে বিচারপতিদের মন্তব্য, কেন্দ্রীয় কর্মীরা একপেশে আচরণ করবেন—এই আশঙ্কার ভিতটা খুব মজবুত নয়। সরকারি কর্মীদের ওপর কিছুটা আস্থা রাখার কথাও বলা হয়।

তৃণমূলের হয়ে কপিল সিব্বল আদালতে একাধিক প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, ১৩ এপ্রিল এই সংক্রান্ত নির্দেশ জারি হলেও দলটি বিষয়টি জানতে পারে অনেক দেরিতে, ২৯ এপ্রিল। ফলে সময়মতো আপত্তি জানানোর সুযোগ পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও বলেন, গণনা কেন্দ্রগুলিতে অশান্তির আশঙ্কা কমিশন কী ভিত্তিতে করছে, তা পরিষ্কার নয়। প্রতিটি কেন্দ্রে গোলমাল হবে—এই ধারণা কোথা থেকে এল, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। পাশাপাশি মনে করিয়ে দেন, আগে থেকেই প্রতিটি টেবিলে কেন্দ্রীয় কর্মীরা মাইক্রো অবজারভার হিসেবে রয়েছেন, তাহলে আলাদা করে তত্ত্বাবধায়ক বসানোর প্রয়োজন কোথায়?

সিব্বল আরও দাবি করেন, নির্দেশিকায় রাজ্য সরকারি কর্মীর উপস্থিতির কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। এতে রাজ্য প্রশাসনের ওপর সন্দেহ তৈরি হচ্ছে বলেও তাঁর বক্তব্য।

এখানেই প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি নরসিমা—সবাই যখন সরকারি কর্মী, তখন আপত্তির জায়গাটা কোথায়? বিচারপতি বাগচীও বলেন, নিয়োগ কেন্দ্র বা রাজ্য—কোথা থেকে হচ্ছে, সেটাই মুখ্য নয়। পুরো বিষয়টাই নির্বাচন কমিশনের বিবেচনার ওপর নির্ভর করছে। তিনি আরও মনে করিয়ে দেন, গণনা কেন্দ্রগুলিতে একাধিক স্তরের নজরদারি থাকে—এজেন্ট, সুপারভাইজার, সহকারী, মাইক্রো অবজারভার—সব মিলিয়ে এককভাবে কিছু করার সুযোগ খুবই সীমিত।

এরপর তৃণমূলের তরফে কমিশনের নির্দেশিকা কড়াভাবে মানার দাবি তোলা হয়। জবাবে নির্বাচন কমিশন জানায়, সব নিয়ম মেনেই কাজ হচ্ছে। তাদের বক্তব্য, রাজ্যের আশঙ্কা অমূলক—কারণ রাজ্য সরকারি কর্মীরাও পুরো প্রক্রিয়ার অংশ থাকবেন।

কমিশনের আইনজীবী ডি এস নাইডু আদালতে জানান, ভারসাম্য রাখার মতো ব্যবস্থাই করা হয়েছে—যেখানে তত্ত্বাবধায়ক কেন্দ্রীয় কর্মী, সেখানে গণনা এজেন্ট হিসেবে থাকবেন রাজ্যের প্রতিনিধি।

এই রায়ের পর বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি বলেন, এই সিদ্ধান্ত তৃণমূলের জন্য বড় ধাক্কা।

প্রসঙ্গত, ৩০ এপ্রিল রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর থেকে নির্দেশ জারি হয়েছিল—প্রতিটি গণনা টেবিলে একজন করে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে থাকবেন। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে প্রথমে হাই কোর্টে যায় তৃণমূল। সেখানে তাদের যুক্তি ছিল, শুধুমাত্র আশঙ্কার ভিত্তিতে এমন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং এতে পক্ষপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে। কিন্তু হাই কোর্ট সেই যুক্তি খারিজ করে দেয়। এরপরই বিষয়টি নিয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয় শাসকদল।