নিজেদের মাঠে, সমর্থকদের গর্জনের মাঝেই বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল মেক্সিকো। আর সেই শুরুটা হলো একেবারে স্বপ্নের মতো। বৃহস্পতিবার অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারিয়ে ‘এ’ গ্রুপে পূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নিল স্বাগতিকদের অন্যতম প্রতিনিধি দল।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা যায় মেক্সিকোকে। প্রতিপক্ষের ওপর লাগাতার চাপ তৈরি করে তারা। তার ফলও মেলে খুব দ্রুত। নবম মিনিটেই জুলিয়ান কুইনোনেস গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। দক্ষিণ আফ্রিকার গোলরক্ষকের ভুল পাস থেকে তৈরি হওয়া সুযোগ কাজে লাগাতে কোনো ভুল করেননি তিনি।
প্রথমার্ধে আরও কয়েকটি সহজ সুযোগ পেয়েছিল মেক্সিকো, কিন্তু ব্যবধান বাড়ানো সম্ভব হয়নি। তবুও খেলার নিয়ন্ত্রণ পুরো সময়ই ছিল তাদের হাতে।
দ্বিতীয়ার্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। ৪৯ মিনিটে দ্রুতগতির একক দৌড়ে বিপজ্জনক জায়গায় পৌঁছে যাওয়া রাউল গিমেনেজকে থামাতে গিয়ে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন ইয়াইয়া সিথোলে। দশ জনের দলে পরিণত হওয়ার পর ম্যাচে ফেরার সম্ভাবনা অনেকটাই ক্ষীণ হয়ে যায় আফ্রিকান দলের।
সংখ্যার সুবিধা কাজে লাগাতে দেরি করেনি মেক্সিকো। ৬৭ মিনিটে রবার্তো আলভারাদোর নিখুঁত ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে গোল করেন দলের তারকা ফরোয়ার্ড রাউল গিমেনেজ। সেই গোলেই কার্যত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়।
তবে দক্ষিণ আফ্রিকার দুর্ভাগ্য তখনও শেষ হয়নি। ৮৩ মিনিটে থেম্বা জাওয়ানেও লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। শেষ মুহূর্তে দলকে নয় জন নিয়ে খেলতে হয়।
অবশ্য ম্যাচের একেবারে অন্তিম সময়ে মেক্সিকোও একটি ধাক্কা খায়। জয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার পর অতিরিক্ত সময়ে অপ্রয়োজনীয় ট্যাকল করতে গিয়ে লাল কার্ড দেখেন সিজার মন্টেস। যদিও তাতে ম্যাচের ফলাফলে কোনো প্রভাব পড়েনি।
শেষ পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানের স্বস্তিদায়ক জয় নিয়েই বিশ্বকাপের মঞ্চে যাত্রা শুরু করল মেক্সিকো। অন্যদিকে, হার এবং দুই লাল কার্ডে দক্ষিণ আফ্রিকার অভিযান শুরু হলো হতাশার সুরে।

Social Plugin