ভারতে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নের প্রথম বড় ধাপ নিট-ইউজি। সেই পরীক্ষার জন্য বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম করেন লক্ষ লক্ষ পড়ুয়া। কিন্তু পরীক্ষা দেওয়ার পর হঠাৎ জানতে পারা গেল, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে সেই পরীক্ষাই বাতিল। ২০২৪ সালের বিতর্কের স্মৃতি ফিরিয়ে এনে আবারও নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা (এনটিএ)। আগামী ২১ জুন পুনরায় পরীক্ষা হওয়ার কথা। আর সেই সিদ্ধান্তের পর থেকেই অনিশ্চয়তা, হতাশা ও মানসিক চাপ ঘিরে ধরেছে পরীক্ষার্থীদের।
চলতি বছর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পাশাপাশি নিটও দিয়েছিলেন ঋদ্ধিমা বনসল। তিনি জানান, পরীক্ষার পর নিজের ফলাফল নিয়ে যথেষ্ট আশাবাদী ছিলেন। মনে হয়েছিল, ভালো নম্বর পেয়ে একটি নামী মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবেন। কিন্তু পরীক্ষা বাতিলের খবর শোনার পর সবকিছু যেন ওলটপালট হয়ে যায়।
ঋদ্ধিমার কথায়, “নিট দিয়ে খুব নিশ্চিন্ত ছিলাম। পরে জানতে পারলাম, সেই পরীক্ষাই আর গণ্য হবে না। আবার নতুন করে প্রস্তুতি নিতে হবে। বই খুলে বসতে ইচ্ছে করছিল না। এখন ঘুমেরও সমস্যা হচ্ছে। রাত তিনটে পর্যন্ত জেগে থাকতে হচ্ছে, আবার সকাল সাতটায় উঠে পড়তে বসছি। এনটিএর ওপর আর আগের মতো ভরসা নেই।”
একই রকম হতাশার কথা শোনালেন বৈভবী নামে আর এক পরীক্ষার্থী। তিনি বলেন, “পরীক্ষা বাতিলের খবরটা আমি পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটাতে গিয়ে পেয়েছিলাম। মুহূর্তের মধ্যে সব আনন্দ মাটি হয়ে যায়। এখন আর পড়াশোনায় মন বসছে না। সবচেয়ে বড় ভয়, দ্বিতীয়বার পরীক্ষায় হয়তো আগের মতো ভালো ফল করতে পারব না।”
দীর্ঘদিনের প্রস্তুতির পরও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পাওয়া মাধুরী সুধীর শেলারের মতো পরীক্ষার্থীদের জন্য এই পরিস্থিতি আরও কঠিন। তাঁর কথায়, “দু’বছর ধরে শুধু এই পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি। এত পরিশ্রমের পর যদি পরীক্ষা বাতিল হয়ে যায়, তাহলে সত্যিই মন ভেঙে যায়। আবার সব শুরু করতে হচ্ছে।”
নতুন পরীক্ষার দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে পরীক্ষার্থীদের উদ্বেগ। শুধু একটি পরীক্ষা নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বহু তরুণ-তরুণীর ভবিষ্যৎ, স্বপ্ন এবং দীর্ঘদিনের পরিশ্রম। তাই প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সেই পড়ুয়ারাই, যাঁরা নিষ্ঠার সঙ্গে নিজের লক্ষ্য পূরণের জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

Social Plugin