জার্মানির আসল পরীক্ষা এবার! আইভরি কোস্টের বিরুদ্ধে নামার আগে আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে, শিবিরে সাপের আতঙ্কও

ফুটবল নিয়ে গ্যারি লিনেকারের সেই বিখ্যাত মন্তব্য এখনও সমান প্রাসঙ্গিক—‘৯০ মিনিট ধরে ২২ জন ফুটবলার বলের জন্য লড়াই করে, আর শেষে জেতে জার্মানি।’ কথাটিতে খানিক রসিকতা থাকলেও, জার্মান ফুটবলের চরিত্র যেন ঠিক এটাই। শেষ বাঁশি না বাজা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়াই তাদের স্বভাব। প্রতিপক্ষ যতই শক্তিশালী বা দুর্বল হোক, গতি কমানো বা দয়া দেখানোর রীতি জার্মানদের নেই।

প্রথম ম্যাচেই তার প্রমাণ মিলেছে। কুরাসাওয়ের বিরুদ্ধে বিরতির আগেই কার্যত ম্যাচ নিজেদের দখলে নিয়ে নিয়েছিল জুলিয়ান নাগেলসম্যানের দল। অন্য কোনও দল হলে হয়তো দ্বিতীয়ার্ধে বলের দখল ধরে রেখে সময় নষ্ট করত। কিন্তু জার্মানরা থামেনি। একের পর এক আক্রমণে শেষ পর্যন্ত সাত গোল তুলে প্রতিপক্ষকে বিধ্বস্ত করেছে। এই জয় শুধু তিন পয়েন্ট নয়, বাকি দলগুলোর উদ্দেশেও স্পষ্ট বার্তা—জার্মানিকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।

শনিবার গভীর রাতে, ভারতীয় সময় রাত দেড়টায়, চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সামনে এবার আইভরি কোস্ট। তবে ম্যাচের আগে অন্য এক ঘটনায় কিছুটা চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জার্মান শিবিরে। নর্থ ক্যারোলিনার ওয়েস্ট ফরেস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে দলের বেস ক্যাম্পের ঘাসের মধ্যে দেখা মেলে একটি বিষাক্ত কপারহেড সাপের। পরে সেটিকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।

ঘটনা নিয়ে অধিনায়ক যোশুয়া কিমিচও মজা করে বলেন, প্রতিপক্ষকে নিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া যায়, কিন্তু ঘাসের মধ্যে কী লুকিয়ে আছে, তা আগে থেকে জানা সম্ভব নয়। তিনি জানান, এই প্রজাতির সাপ অত্যন্ত বিষাক্ত বলে শুনেছেন।

এই সামান্য অস্বস্তি বাদ দিলে জার্মান শিবিরে আত্মবিশ্বাসের অভাব নেই। এখন পুরো নজর আইভরি কোস্টের রক্ষণভাগ ভাঙার কৌশলে। জার্মান সংবাদমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে বায়ার্ন মিউনিখের পরিচিত ফুটবলারদের নিয়েই। ম্যানুয়েল ন্যুয়ের, কিমিচ, লেওন গোরেটস্কা, জোনাথন টা, জামাল মুসিয়ালা এবং আলেকজান্ডার পাবলোভিচ দীর্ঘদিন একসঙ্গে খেলছেন। সেই বোঝাপড়াকেই জাতীয় দলেও কাজে লাগাচ্ছেন নাগেলসম্যান।

রক্ষণে শ্লটারবেক ও টা জুটি বেশ নির্ভরযোগ্য। মাঝমাঠে কিমিচ দ্বিতীয় বল দখলে অসাধারণ দক্ষ। বাঁ দিক দিয়ে নাথানিয়াল ব্রাউন নিয়মিত উঠে এসে আক্রমণে বাড়তি মাত্রা যোগ করছেন। অন্যদিকে পাবলোভিচ, লেরয় সানে এবং মুসিয়ালার গতিময় ফুটবল প্রতিপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। স্ট্রাইকার কাই হাভার্টজের ঠিক পিছনে মুসিয়ালাকে খেলিয়ে আক্রমণে বাড়তি সৃজনশীলতা আনছেন নাগেলসম্যান। কুরাসাওয়ের বিরুদ্ধে সেই পরিকল্পনাই দারুণ সফল হয়েছিল।

তবে প্রথম ম্যাচের বড় জয় দেখে অতিরিক্ত উচ্ছ্বসিত হওয়ার সুযোগ নেই। কুরাসাও এই মঞ্চে একেবারেই নবাগত দল। তাদের বিরুদ্ধে দাপুটে জয় যতটা প্রত্যাশিত ছিল, আইভরি কোস্টের মতো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ততটাই কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। বিশেষ করে প্রতি-আক্রমণ সামলাতে জার্মান রক্ষণ কতটা কার্যকর, তার প্রকৃত মূল্যায়ন এখনও হয়নি। শক্তিশালী দলগুলো এত সহজে জায়গা ছেড়ে দেবে না।

তাই আইভরি কোস্ট ম্যাচ শুধু আরেকটি গ্রুপ পর্বের লড়াই নয়, বরং নাগেলসম্যানের পরিকল্পনা কতটা কার্যকর, তারও বড় পরীক্ষা। আর নক-আউট পর্বের জন্য তিনি কোনও বিশেষ কৌশল গোপন করে রেখেছেন কি না, সেই প্রশ্নও ঘুরপাক খাচ্ছে ফুটবল মহলে।