১১ মাসের সর্বোচ্চ বেকারত্ব, গ্রাম থেকে শহর—চাকরির বাজারে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

দেশে কর্মসংস্থানের পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়াল সরকারি পরিসংখ্যান। সোমবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে দেশের বেকারত্বের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫.৫ শতাংশে, যা গত ১১ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এপ্রিল মাসে এই হার ছিল ৫.২ শতাংশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, মূল ধাক্কা এসেছে গ্রামীণ অর্থনীতিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যাওয়ায়। তবে শুধু গ্রাম নয়, শহরাঞ্চলেও চাকরির বাজারে চাপ স্পষ্ট। সেখানে বেকারত্বের হার এক মাসের ব্যবধানে ৪.৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫.১ শতাংশে পৌঁছেছে।

জাতীয় পরিসংখ্যান অফিসের পর্যায়ক্রমিক শ্রমশক্তি সমীক্ষার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে। সমীক্ষা বলছে, গত কয়েক মাসে একাধিক কারণ কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে জ্বালানির খরচ বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে উৎপাদন ও শিল্পক্ষেত্রে। অনেক ছোট ও মাঝারি কারখানায় উৎপাদন কমেছে, কোথাও কোথাও কাজ বন্ধও হয়েছে। ফলে বহু পরিযায়ী শ্রমিককে কাজ ছেড়ে নিজ নিজ রাজ্যে ফিরতে হয়েছে। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ ও অসমে নির্বাচনকে ঘিরেও অসংগঠিত ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানে কিছুটা প্রভাব পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

উদ্বেগের বিষয়, শুধু অসংগঠিত ক্ষেত্র নয়, তথ্য-প্রযুক্তি শিল্পের মতো সংগঠিত ক্ষেত্রেও কাজের চাহিদা কমেছে। মে মাসে এই ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের চাহিদা আগের মাসের তুলনায় প্রায় ২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই এই শিল্পকে দেশের অন্যতম বড় কর্মসংস্থানের উৎস হিসেবে ধরা হয়। সেখানে মন্দার ইঙ্গিত স্বাভাবিকভাবেই চিন্তার কারণ।

পরিসংখ্যান বলছে, গ্রামীণ এলাকায় পুরুষদের বেকারত্বের হার এপ্রিলের ৪.৭ শতাংশ থেকে বেড়ে মে মাসে ৫.২ শতাংশ হয়েছে। শহরে পুরুষদের ক্ষেত্রে হার ৫.৯ শতাংশেই স্থির রয়েছে। অন্যদিকে শহুরে মহিলাদের বেকারত্বের হার সামান্য কমে ৮.৫ শতাংশ থেকে ৮.২ শতাংশে এলেও তা এখনও যথেষ্ট বেশি। গ্রামীণ মহিলাদের ক্ষেত্রে আবার এই হার ৫.৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫.৬ শতাংশ হয়েছে।

ক্রমবর্ধমান জ্বালানির খরচ, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক অস্থিরতার প্রভাব এখন দেশের শ্রমবাজারেও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন ছোট শিল্প ও উৎপাদন ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত শ্রমজীবী মানুষ। আগামী দিনে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির উন্নতি হলেও কর্মসংস্থানের বাজার কত দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। কারণ চাকরির সুযোগ না বাড়লে বেকারত্বের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেশের অর্থনীতির জন্য আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।