তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ সাংসদদের নতুন ঠিকানা এনসিপিআই, নেপথ্যে ভূপেন্দ্র যাদবের সক্রিয় ভূমিকা ঘিরে জোর জল্পনা

তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী সাংসদদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনার অবসান ঘটিয়ে স্পষ্ট হয়েছে, তাঁরা আপাতত ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া’ (এনসিপিআই)-তে যোগ দিচ্ছেন। দলটির তরফেও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হয়েছে। তবে রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি চর্চার বিষয়, এই নতুন গোষ্ঠীর কার্যত কেন্দ্র হয়ে উঠছে নয়াদিল্লির ৯, মতিলাল নেহরু মার্গ— কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সরকারি বাসভবন।

বিজেপির শীর্ষ সূত্রের দাবি, পশ্চিমবঙ্গে সাংগঠনিক দায়িত্বে থাকা ভূপেন্দ্র যাদবের ভূমিকা শুধু বিজেপির সংগঠন শক্তিশালী করাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। রাজ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপরও তাঁকে নিয়মিত নজর রাখতে বলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশে তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের গতিবিধিও তাঁর পর্যবেক্ষণের আওতায় থাকবে বলে দলীয় মহলে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি তাঁকে নিয়মিতভাবে রিপোর্ট দিতে হবে বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা সুনীল বনসলকে।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে যেমন নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে, তেমনই বিজেপির অন্দরেও নতুন ক্ষমতার কেন্দ্র গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।

এরই মধ্যে গুঞ্জন ছড়িয়েছে, বিদ্রোহী শিবিরের কয়েকজন সাংসদকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়া হতে পারে। যদিও সেই সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন সদ্য বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়া সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, অমিত শাহ বা ভূপেন্দ্র যাদব— কারও সঙ্গেই মন্ত্রিত্ব বা নতুন গোষ্ঠীর নেতৃত্ব নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। আপাতত শুধু এটুকুই স্থির হয়েছে যে, ২০ জন সাংসদ এনসিপিআইয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন।

সুদীপ আরও জানান, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা তাঁদের জানিয়েছেন, সংসদ ভবনে এনসিপিআইয়ের জন্য একটি পৃথক দলীয় অফিস এবং লোকসভার ভিতরে আলাদা বসার ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁদের ২০ জনের ঐক্য ভাঙার চেষ্টা চলছে। তবে সেই চেষ্টা সফল হবে না বলেই তাঁর দাবি। তাঁর কথায়, আপাতত অন্য দলে যোগ দিলেও ভবিষ্যতে তাঁরা তৃণমূলের নির্বাচনী প্রতীক নিয়েই আইনি লড়াই করবেন। সেই বিতর্ক আগামী সংসদ অধিবেশনেই নতুন মাত্রা পেতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

দলবদলের এই পথ বেছে নেওয়ার নেপথ্যে ভূপেন্দ্র যাদবের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলেও বিজেপির অন্দরে আলোচনা রয়েছে। সূত্রের খবর, ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও বাংলার বিজেপির সহকারী পর্যবেক্ষক বিপ্লব দেবের সঙ্গে আলোচনা করেই এনসিপিআইকে বিকল্প হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়। তবে সিদ্ধান্ত কার্যকর করার আগে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের শীর্ষস্তরের সম্মতিও নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিজেপির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সাংগঠনিক বিষয়ে ভূপেন্দ্র যাদবের অভিজ্ঞতার উপরই দলের আস্থা সবচেয়ে বেশি। আপাতত তাঁর তত্ত্বাবধানেই গোটা প্রক্রিয়া এগোবে।

অন্যদিকে, বিদ্রোহী সাংসদদের নতুন দলে অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন করতে সোমবার থেকেই সক্রিয় হয়েছে লোকসভা স্পিকারের দফতর। পুরনো নথি এবং আদালতের বিভিন্ন রায় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিদ্রোহী সাংসদরাও একাধিক আইনজীবীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। জানা গিয়েছে, সংবিধানের দশম তফসিলের চতুর্থ অনুচ্ছেদকে ভিত্তি করে তাঁরা স্পিকারের কাছে আবেদন জমা দিয়েছেন। সেই আইনি যুক্তির উপর ভর করেই তাঁরা এগোতে চাইছেন, ফলে শিবসেনা মামলায় সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারপতির রায়কে এই ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না বলেই সূত্রের দাবি।