কানসাস সিটির রাস্তায় হাঁটলে এই মুহূর্তে মনে হবে যেন আমেরিকার কোনও শহরে নয়, আর্জেন্তিনারই কোনও ফুটবলপাগল জনপদে এসে পড়েছেন। চারদিকে নীল-সাদা জার্সি, পতাকা, স্কার্ফ— বিশ্বকাপের আবহে শহর যেন অন্য এক রূপ নিয়েছে। কানসাস নদীর তীর, শহরের চত্বর, ফ্যান জোন— সর্বত্র একটাই নাম, লিওনেল মেসি।
বুধবার সকালে (ভারতীয় সময়) বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্তিনা। প্রথম ম্যাচে প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া। কাগজে-কলমে এগিয়ে থাকলেও প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নিতে রাজি নন সমর্থকরাও। ফ্যান জোনের সামনে দাঁড়িয়ে এক আর্জেন্তাইন সমর্থকের মন্তব্য, “বিশ্বকাপে কোনও দলকেই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। স্কালোনির দলকে সতর্ক থাকতেই হবে।”
সতর্কতার কারণও আছে। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ধাক্কা খাওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতা আর্জেন্তিনার নতুন নয়। ১৯৯০ সালে ক্যামেরুনের কাছে হার, আবার ২০২২ সালে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে অপ্রত্যাশিত পরাজয়— দু’বারই শুরুটা ছিল হতাশার। তবে শেষ পর্যন্ত সেই ব্যর্থতাকে পেছনে ফেলে ঘুরে দাঁড়ানোর ইতিহাসও রয়েছে আলবিসেলেস্তেদের। বিশেষ করে কাতারের বিশ্বকাপ তো শেষ হয়েছিল মেসির হাতে স্বপ্নের ট্রফি ওঠার মধ্য দিয়ে।
সেই কারণেই হয়তো কোচ লিওনেল স্কালোনি কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। মে মাসের শেষ থেকেই দল কানসাসে ঘাঁটি গেড়েছে। স্থানীয় পরিবেশ, আবহাওয়া এবং মাঠের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছিল অনেক আগেই।
মেসির ক্ষেত্রে অবশ্য আমেরিকা নতুন নয়। ২০২৩ সাল থেকে তাঁর ঠিকানা মায়ামি। ইন্টার মায়ামির জার্সিতে তিনি যেমন আলো ছড়িয়েছেন, তেমনই মার্কিন মুলুকের নানা প্রান্তে এখন দেখা যায় তাঁর বিশাল ম্যুরাল। কিন্তু ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার চেয়ে এখন তাঁর চোখ শুধু মাঠে। অনুশীলন, প্রস্তুতি আর দলের পরিকল্পনাতেই ডুবে রয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
এটাই মেসির ষষ্ঠ এবং সম্ভবত শেষ বিশ্বকাপ। এক সময় যে মানুষটিকে অসীম প্রত্যাশার চাপ নিয়ে খেলতে হতো, আজ তিনি মাঠে নামছেন অনেকটাই মুক্ত মন নিয়ে। বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মর্যাদা তাঁর কাঁধে থাকলেও এবার যেন লক্ষ্য একটাই— ফুটবলটাকে উপভোগ করা এবং শেষবারের মতো নিজের শিল্প দিয়ে বিশ্বমঞ্চকে মুগ্ধ করা।
বিশ্বকাপের আগে পেশির চোট কিছুটা উদ্বেগ বাড়িয়েছিল। তবে চিকিৎসক ও কোচিং স্টাফের পরামর্শ মেনে ধীরে ধীরে নিজেকে প্রস্তুত করেছেন তিনি। সোমবার কানসাস সিটি স্পোর্টস কমপ্লেক্সে রুদ্ধদ্বার অনুশীলনে আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে কৌশল নিয়ে কাজ করেছে আর্জেন্তিনা। মেসির সঙ্গে ছিলেন লাওতারো মার্তিনেজ, রদ্রিগো দে পল, গনসালো মন্তিয়েলরা।
দলের সবাই জানেন, বিশ্বকাপের মঞ্চে মেসির সঙ্গে এটাই তাঁদের শেষ পথচলা। তাই আর পাঁচটা টুর্নামেন্টের মতো নয়, এই অভিযানের আবেগ আলাদা। আর সেই আবেগকে সঙ্গী করেই কানসাসের নীল-সাদা ঢেউয়ের মাঝখানে শুরু হতে চলেছে আর্জেন্তিনার নতুন বিশ্বকাপ অধ্যায়।

Social Plugin