মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে গত কয়েকদিন ধরে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছিল। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজের চলাচল বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছিল। তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছিল বিভিন্ন ক্ষেত্রেই। LPG-র ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগও তৈরি হয়েছিল দেশের নানা জায়গায়।
তবে এই পরিস্থিতির মধ্যেই কিছুটা স্বস্তির খবর এসেছে। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে আলোচনার পর ভারতীয় জাহাজগুলিকে হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছে ইরান।
জানা গেছে, ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরঘাচির সঙ্গে জয়শঙ্করের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। সেই আলোচনার পরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলি হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করতে পারবে। মূলত যাতে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ পুরোপুরি থমকে না যায়, সেই বিষয়টিই আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছিল।
এখনও অবশ্য এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথে সব দেশের জাহাজের জন্য একই নিয়ম নেই। বিশেষ করে আমেরিকা, ইউরোপ ও ইজরায়েলের জাহাজগুলিকে নানা বিধিনিষেধের মুখে পড়তে হচ্ছে বলে খবর।
এই ইস্যুতে কূটনৈতিক তৎপরতাও বাড়িয়েছে নয়াদিল্লি। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ইতিমধ্যেই রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সার্জেই ল্যাভরভ এবং ফ্রান্সের বিদেশমন্ত্রী জঁ ন্যুয়েল ব্যারটের-এর সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী বিশ্বের জ্বালানি পরিবহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। এই সরু জলপথ দিয়েই বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পৌঁছায়। তাই এখানে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে তার প্রভাব আন্তর্জাতিক বাজারে পড়তেই পারে।
ভারতের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশের জ্বালানির বড় অংশই আমদানির ওপর নির্ভরশীল। ফলে গাল্ফ অঞ্চলের এই ধরনের শিপিং রুট খোলা এবং স্থিতিশীল থাকা ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত জরুরি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই সিদ্ধান্তের ফলে অন্তত আপাতত জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তা কিছুটা কমতে পারে।

Social Plugin