রঞ্জন ঘোষের অদম্য সিনেমা দুঃসাহসিক প্রচেষ্টা


অদম্য সিনেমাটি দেখার পরে বেশ কিছুক্ষণ অবাক বিস্ময়ে চারপাশটা দেখছিলাম। চারপাশটা কি বদলে গেছে। না। সবই তো একই আছে। আসলে অদম্যের অভিঘাত আমাকে নাড়িয়ে দিয়েছে। অদম্যের মতো সিনেমাই দেখতে চেয়েছি। আর বারবার আশাভঙ্গ হয়েছে। সেই থোড় বড়ি খাঁড়া আর খাঁড়া বড়ি থোড়। আর একটি সিনেমাও আমাকে খুব নাড়িয়ে দিয়েছিল। নাম- পিপলি লাইভ। রাজনৈতিক জাঁতাকলে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত পোষিত হয়ে চলেছে। এই সহজ সত্যটা খুব সুন্দরভাবে রঞ্জন ঘোষ অদম্য সিনেমায় তুলে ধরেছেন। অদম্য ছবিটির ভাবনার প্রেক্ষিতে  রঞ্জন ঘোষ জানিয়েছেন, "২০১৪ সালে আমার ‘হৃদমাঝারে’ মুক্তি পায়। ভাবতে থাকি, আর কী ছবি করা যেতে পারে। সেই সময় থেকে দেশের পরিস্থিতিও একটু একটু করে বদলাচ্ছিল। একটা ভয়ের আবহ চারদিকে ছড়িয়ে যাচ্ছিল। সেই সময় মাথায় এসেছিল, একটি একক চরিত্র নিয়ে যদি কোনও ছবি করা যায়। ছোটবেলা থেকেই আমি ভগৎ সিংয়ের আদর্শে অনুপ্রাণিত। আমার সেই রাজনৈতিক প্রেক্ষিতে মনে হতে থাকে, ভগৎ সিং সেই সময় ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন, আজ তিনি থাকলে কাদের বিরুদ্ধে লড়তেন?"

অদম্য’ সিনেমার প্রেক্ষাপট সুন্দরবন,  যেখানে  সাধারণ মানুষ, প্রকৃতি ও রাষ্ট্রের মধ্যে বিভিন্ন ঘাত প্রতিঘাত চলে।  সিনেমার শুরুতেই একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ঘটে। আর সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয় ২৩ বছরের তরুণ পলাশের চরিত্র।  সমাজ বদলের স্বপ্নদেখা পলাশ বিশ্বাস করে পচন ধরলে তা গোড়া থেকে নির্মূল করতে হয়। সমসাময়িক বাংলা সিনেমায় অদম্য এক ব্যতিক্রমী সিনেমা। এমন একটি ছবি যা আজকের রাজনৈতিক ধারাকে ধরলেও এক অনন্য অনুভূতি উপলব্ধি হয়। যে অদম্য অনন্য।  এই অনুভূতি তৈরির পেছনে শব্দের এক বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। সাউন্ড স্কেপকেই বলা যেতে পারে এই ছবির মেরুদণ্ড।  বিশেষত দুই অভিনেতা আরয়ুন আর সেঁজুতি মুখার্জি মূল দুই চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় করেছেন। এ ছাড়াও সামান্য কয়েকটি দৃশ্যে বাকি কয়েকজনকে দেখা যায়, তবে বেশিরভাগটা জুড়ে এঁরাই। মা ও সন্তানের এই সম্পর্ক ও স্নেহের মধ্যে কোথাও কি পাঁচিল তুলে দাঁড়িয়েছে রাজনীতির আদর্শ। আদর্শ ও পারিবারিক বন্ধন এই দুয়ের যে সংঘাত তা আমরা বেশ কিছু উপন্যাসে দেখেছি। অদম্য সিনেমায় তা অন্তর্নিহিত রয়েছে। রঞ্জন ঘোষের অদম্য ছবিটির মূল নির্যাস ভারসাম্য বজায় রাখা , পাশাপাশি একটি  আবেগহীন সুর বজায় রাখে যা মেলোড্রামাকে প্রতিরোধ করে।