গত ১০ মার্চের শুনানিতে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ভোট ঘোষণার পথে আইনি কোনও বাধা নেই। শুনানির সময় আদালতে জানানো হয়, প্রায় ৬০ লক্ষ আবেদনের মধ্যে ইতিমধ্যেই প্রায় ১০ লক্ষের নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে যে অনিশ্চয়তা ঘিরে ছিল, তা অনেকটাই কাটতে শুরু করেছে।
এদিকে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা, খুব শিগগিরই বিধানসভা ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হতে পারে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ১৬ মার্চই পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচটি রাজ্যের ভোটের সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করতে পারেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। যদিও এখনও পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের তরফে চূড়ান্ত ঘোষণা হয়নি, তবে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত, প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে।
পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি একই দিনে ভোটের সূচি ঘোষণা হওয়ার কথা তামিলনাড়ু, কেরল, অসম এবং পুদুচেরিতেও। কিছুদিন আগেও রাজনৈতিক অন্দরে জল্পনা ছিল, প্রক্রিয়ার জট না কাটলে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করেও পরে ভোট ঘোষণা হতে পারে। তবে সেই সম্ভাবনা এখন কার্যত উড়িয়ে দিয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন।
এখন মূল প্রশ্ন, পশ্চিমবঙ্গে ভোট হবে ক’দফায়। অতীতে রাজ্যে বহু দফায় ভোট হয়েছে, এমনকি একবার আট দফাতেও নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু এবার পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা হতে পারে বলেই ইঙ্গিত মিলছে। কমিশনের অন্দরে আলোচনা চলছে, হয়তো মাত্র দুই দফাতেই ভোট শেষ করা যেতে পারে। যদি সত্যিই ১৬ মার্চ ভোটের দিন ঘোষণা করা হয়, তাহলে নিয়ম অনুযায়ী প্রথম দফার আগে অন্তত ২৮ থেকে ৩০ দিনের সময় রাখতে হবে। সে ক্ষেত্রে এপ্রিলের মাঝামাঝি কিংবা তৃতীয় সপ্তাহ নাগাদ প্রথম দফার ভোট হতে পারে। সব ঠিক থাকলে এপ্রিলের মধ্যেই ভোটগ্রহণ এবং ফল ঘোষণাও শেষ হয়ে যেতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের একটি সূত্র বলছে, ১৮ মার্চ থেকে মনোনয়ন জমা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করার ঘোষণা করা হতে পারে। তবে বাংলার রাজনৈতিক মহলের অনেকেই মনে করছেন, অন্য রাজ্যগুলিতে ভোটের প্রক্রিয়া আগে শেষ করে তারপর পশ্চিমবঙ্গে ভোট করানোর পরিকল্পনাও থাকতে পারে।
অতীতে নির্বাচনী হিংসা ঠেকাতে বহু দফায় ভোট করানো হয়েছে। কিন্তু এবার কমিশনের অন্দরে একটা ধারণা তৈরি হয়েছে, খুব বেশি দফায় ভোট করানোর প্রয়োজন হয়তো নেই। কমিশনের এক আধিকারিকের কথায়, ভোটের দফা কম হলে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় গিয়ে গোলমাল পাকানোর সুযোগ অনেকটাই কমে যায়।
কিছুদিন আগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ বাংলায় এসে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে গেছে। রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি প্রশাসনের শীর্ষকর্তা, জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারদের সঙ্গেও বৈঠক হয়েছে। লক্ষ্য একটাই—যতটা সম্ভব শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন শেষ করা।
জানা যাচ্ছে, সেই বৈঠকেই বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল দুই দফায় ভোটের পক্ষে মত দিয়েছে। রাজ্য প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর অনেক কর্মকর্তাও একই পরামর্শ দিয়েছেন। সবদিক খতিয়ে দেখে দিল্লিতে আরেক দফা বৈঠকের পরই পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনের ভোট ক’দফায় হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

Social Plugin