ভয় দেখিয়েও থামানো গেল না, ভবানীপুরে ভোটের দিনে উত্তাপ আর প্রতিবাদের ছবি

ভবানীপুরে ভোটের দিনটা যেন আগের রাত থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছিল। মঙ্গলবার গভীর রাতের সেই অশান্তির রেশ বুধবার সকালেও কাটেনি। অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর বাড়াবাড়ি, ভয় দেখানো—সবকিছুর মধ্যেও মানুষ কিন্তু লাইনে দাঁড়ানো থেকে সরে আসেনি। বরং কোথাও কোথাও দেখা গেছে উল্টো ছবি—রাগ, প্রতিবাদ আর জেদ মিলিয়ে ভোট দিতে বেরিয়েছেন অনেকে।

এই পরিস্থিতির মাঝেই বিকেলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, এত চাপ, এত ‘গুন্ডামি’র পরেও তাঁর দল ২০০ আসন পার করবে। তাঁর দাবি, সব বাধা সত্ত্বেও শেষ কথা বলবে মানুষই।

ভোটের দিন ভোর হতেই ঘর থেকে বেরিয়ে পড়েন মমতা। প্রথমে চেতলায় গিয়ে ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে কথা বলেন, তারপর ৭০ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর অসীম বসুর বাড়িতে যান। সেখানকার ঘটনা নিয়ে তিনি ক্ষোভ উগরে দেন—অভিযোগ, গভীর রাতে সিআরপিএফ গিয়ে বাড়িতে ঢুকে ভয় দেখিয়েছে, পরিবারের সদস্যদের হেনস্তা করেছে। এমনকি কাউন্সিলর যেন দলীয় কাজ না করেন, সেই হুমকিও নাকি দেওয়া হয়েছে।

এরপর একের পর এক অভিযোগ তোলেন তিনি। কোথাও মহিলাদের মারধর, কোথাও বুথে এজেন্ট বসতে না দেওয়া, আবার কোথাও ভোটারদের আটকে দেওয়া—এই সব মিলিয়ে তাঁর বক্তব্য, গোটা প্রক্রিয়াটাই প্রভাবিত করার চেষ্টা হয়েছে। এমনও দাবি করেন, কিছু জায়গায় ভোটের গতি ইচ্ছে করে ধীর করে দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে তিনি সরাসরি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকেই কাঠগড়ায় তোলেন।

তবে এই চাপের মধ্যেও মানুষের অংশগ্রহণ দেখে তিনি আত্মবিশ্বাসী। তাঁর কথায়, “মানুষই ঠিক করবে শেষ ফলটা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে।”

বিকেল চারটে নাগাদ ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনে ভোট দেন মমতা। বুথ থেকে বেরিয়ে হাত তুলে ‘ভিক্ট্রি’ চিহ্ন দেখাতেও ভোলেননি।

অন্যদিকে, দিনভর একাধিক জায়গায় উত্তেজনার খবর আসে। তৃণমূলের অভিযোগ, যেখানে বিজেপির বুথই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, সেখানে তাদের প্রার্থী নানা জায়গায় গিয়ে অশান্তি তৈরি করার চেষ্টা করেছেন।

সবচেয়ে বড় ঘটনা ঘটে দুপুরের দিকে, ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের জয়হিন্দ ভবনের বুথে। অভিযোগ, সেখানে বিজেপি প্রার্থীর মন্তব্য ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয়রা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। এরপর ‘বহিরাগত’ ইস্যু তুলে এলাকায় দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়, ডাকা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী।

অভিযোগ, বাহিনী এসে নির্বিচারে লাঠি চালায়। তাতে এক প্রবীণ মহিলা-সহ কয়েকজন আহত হন। ঘটনাটা ছড়িয়ে পড়তেই আশপাশের বাড়ি থেকে মহিলারা রাস্তায় নেমে আসেন। সরাসরি প্রতিবাদে নামেন তাঁরা। তাঁদের ক্ষোভ—বাইরের লোক বলে অপমান করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, এমন দৃশ্য আগে দেখেননি। ভয় আর ক্ষোভ—দুটোই মিলেমিশে ছিল গোটা দিন জুড়ে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত একটা জিনিস স্পষ্ট—সব চাপের মধ্যেও ভোট দিতে পিছিয়ে যাননি মানুষ।