ওয়াংখেড়ের রাতটা ছিল একেবারে ব্যাটারদের। রান যেন থামতেই চাইছিল না। শেষ পর্যন্ত সেই দৌড়ে এগিয়ে থাকল হায়দরাবাদই—মুম্বইকে ৬ উইকেটে হারিয়ে ম্যাচটা নিজেদের করে নিল বেশ দাপটের সঙ্গে।
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে মুম্বই শুরুটা করেছিল ঝড়ের গতিতে। ওপেনিং জুটি দ্রুত রান তুলতে থাকলেও আসল ঝলকটা আসে রিকেলটনের ব্যাট থেকে। ৫৫ বলে অপরাজিত ১২৩—ইনিংসটা ছিল এক কথায় বিধ্বংসী। চার-ছয়ের বন্যায় তিনি একাই ম্যাচের রং বদলে দেন। উইল জ্যাকসও ২২ বলে ৪৬ রান করে গতি বাড়িয়ে দেন শুরুতেই। তবে সূর্যকুমার যাদব সেভাবে জমতে পারেননি, মাত্র ৫ রানেই থামেন। মাঝের দিকে হার্দিকের ৩১ রানের ছোট কিন্তু কার্যকর ইনিংস দলকে বড় স্কোরের পথে এগিয়ে দেয়। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৪৩—স্কোরবোর্ড তখন ভয় ধরানোর মতো। কিন্তু সেই ভয় যেন হায়দরাবাদের ব্যাটারদের ছুঁতেই পারেনি।
রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল তারা। অভিষেক শর্মা ২৪ বলে ৪৫ রান করে ভিতটা তৈরি করে দেন। তার সঙ্গে ট্র্যাভিস হেডের জুটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়—মাত্র ৩০ বলে ৭৬ রান, নিখুঁত টাইমিং আর নিঃসংকোচ শট খেলায় মুম্বই বোলারদের কার্যত কোণঠাসা করে দেন তিনি।
ঈশান কিষান শূন্য রানে আউট হয়ে কিছুটা ধাক্কা দিলেও, রান তোলার গতি একটুও কমেনি। নীতীশও বেশি দূর এগোতে পারেননি, কিন্তু তখনই দায়িত্ব তুলে নেন ক্লাসেন। ঠাণ্ডা মাথায়, হিসেব করে খেলতে খেলতে ৩০ বলে অপরাজিত ৬৫ রান—শেষটা তিনিই গুছিয়ে দেন। অন্য প্রান্তে সলিল অরোরার ১০ বলে ৩০ রানের ঝড়ো ইনিংস ম্যাচটা কার্যত শেষ করে দেয়।
১৮.৪ ওভারেই ২৪৯ রান তুলে ফেলে হায়দরাবাদ। লক্ষ্য বড় ছিল, কিন্তু তাদের ব্যাটিং দেখে সেটা কখনোই অপ্রাপ্য মনে হয়নি।
ম্যাচ শেষে অধিনায়ক কামিন্সও স্বীকার করেন, শুরুতে লক্ষ্যটা কঠিন মনে হলেও দলের ব্যাটিং শক্তির ওপর তার পূর্ণ আস্থা ছিল। ভালো পিচে এই রান তাড়া করা সম্ভব—এই বিশ্বাসই কাজে দিয়েছে। ওপেনারদের নির্ভীক ব্যাটিংয়ের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এখনকার ক্রিকেটে বড় রানও আর অদম্য নয়, যদি শুরুটা ঠিক হয়।
এই ম্যাচে একটা জিনিস পরিষ্কার—আধুনিক টি-টোয়েন্টিতে ২০০-র বেশি রানও নিরাপদ নয়। মুম্বইয়ের বোলাররা সেদিন সেটাই হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে। কেউই চাপ তৈরি করতে পারেনি, এমনকি বুমরাহর মতো নির্ভরযোগ্য বোলারও বেশ খরুচে ছিলেন।
শেষ পর্যন্ত ম্যাচের সেরা ক্লাসেনই। তবে এই জয়ের আসল ভিতটা গড়ে দিয়েছিল ওপেনিং জুটি। তাদের আক্রমণেই ম্যাচটা হায়দরাবাদের দিকে ঢলে পড়ে অনেক আগেই।
এই জয়ের ফলে হায়দরাবাদ পয়েন্ট টেবিলে উঠে এসেছে উপরের দিকে, আর মুম্বই পড়ে রইল নিচের দিকেই—চাপটা এখন তাদের ওপরই বেশি।

Social Plugin