জ্যোতিবা ফুলের জন্মবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী মোদী ও রাহুলের আলাপচারিতা সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে

সংসদ চত্বরে এমন দৃশ্য রোজ দেখা যায় না। শনিবার ঠিক তেমনই একটা মুহূর্ত তৈরি হলো—প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আর বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী একে অপরকে ‘নমস্তে’ জানিয়ে দাঁড়িয়ে কথা বলছেন, চারপাশে স্বাভাবিক এক পরিবেশ।

ঘটনাটা ঘটেছে ‘প্রেরণা স্থল’-এ, সমাজ সংস্কারক জ্যোতিবা ফুলের ১৯৯তম জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে। সাধারণত এই দুই নেতাকে আমরা দেখি তর্কে, কটাক্ষে, রাজনৈতিক আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে। সেই জায়গা থেকে বেরিয়ে এসে এমন একটা সহজ, স্বতঃস্ফূর্ত আলাপ—স্বাভাবিকভাবেই নজর কাড়ে।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই যে ভিডিওটি শেয়ার করেছে, তাতে দেখা যায়, মোদী পৌঁছনোর সময় রাহুল গান্ধী লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও অর্জুন রাম মেঘওয়ালের সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী গাড়ি থেকে নামতেই উপস্থিত সবাই তাঁকে অভিবাদন জানান। মোদীও ধীরে ধীরে সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন, তারপর আবার ফিরে গিয়ে রাহুলের সঙ্গে কথায় জড়িয়ে পড়েন। কিছুক্ষণ পর সেই আলোচনায় অন্যরাও যোগ দেন।

এই সংক্ষিপ্ত মুহূর্তটা যেন রাজনীতির এক অন্য ছবি তুলে ধরে—যেখানে মতভেদ থাকলেও সৌজন্য পুরোপুরি হারিয়ে যায় না।

জ্যোতিবা ফুলেকে নিয়ে দুই নেতাই নিজেদের বক্তব্যে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। মোদী বলেন, নারী ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার নিয়ে যে লড়াই আজ আমরা দেখি, তার শুরুর পথ দেখিয়েছিলেন ফুলে। শিক্ষাকে তিনি ক্ষমতায়নের হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। সামনে তাঁর দ্বিশত জন্মবার্ষিকী—এই সময় তাঁর চিন্তাধারাকে মনে রাখা আরও জরুরি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রাহুল গান্ধীর কথাতেও একই সুর। তাঁর মতে, প্রান্তিক মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য ফুলে নিজের জীবনটাই উৎসর্গ করেছিলেন। বৈষম্যের বিরুদ্ধে তাঁর লড়াই আজও পথ দেখায়—এ কথা উল্লেখ করে তিনি শ্রদ্ধা জানান।