তার আগে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে বেশ আত্মবিশ্বাসী দেখাল কার্লো আনসেলোত্তির দল। রবিবার রিও ডি জেনেইরোর ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি ম্যাচে পানামাকে ৬-২ গোলে উড়িয়ে দিল সেলেকাওরা। সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক বিষয়, দলের ছয়টি গোলই এসেছে ছয়জন ভিন্ন ফুটবলারের পা থেকে। বিশ্বকাপের আগে আক্রমণভাগের এই বৈচিত্র্য নিশ্চয়ই স্বস্তি দেবে ব্রাজিল শিবিরকে। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে দেখা যায় ব্রাজিলকে। প্রথমার্ধে গোল করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবং কাসেমিরো। সেই দুই গোলের সুবাদে বিরতিতে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা।
দ্বিতীয়ার্ধে নেমে বড়সড় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন কোচ আনসেলোত্তি। গোলরক্ষক আলিসন বেকারকে বাদ দিয়ে মাঠের বাকি দশজন ফুটবলারকেই বদলে দেন তিনি। কিন্তু তাতে দলের ছন্দে কোনও ভাটা পড়েনি। বরং নতুন ফুটবলারদের নিয়ে আরও গতিময় ও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে ব্রাজিল। বিরতির পর গোলের তালিকায় নাম লেখান রায়ান, লুকাস পাকুয়েতা, ইগর থিয়াগো এবং ডানিলো। ফলে সহজেই ৬-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় ব্রাজিল। তবে বড় জয়ের মধ্যেও কিছুটা চিন্তার কারণ রয়েছে।
ছয় গোল করলেও নিজেদের জালে দু’বার বল তুলতে হয়েছে আলিসনকে। রক্ষণভাগের এই দুর্বলতা বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই পরের প্রস্তুতি ম্যাচের আগে বিষয়টি নিয়ে নিশ্চয়ই ভাবতে হবে আনসেলোত্তিকে। আগামী রবিবার মিশরের বিরুদ্ধে আরও একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। সেটিই হবে বিশ্বকাপের আগে তাদের শেষ পরীক্ষা। অন্যদিকে দিনের আরেক প্রস্তুতি ম্যাচে দাপট দেখিয়েছে জার্মানি। ফিনল্যান্ডকে ৪-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। জোড়া গোল করেন ডেনিজ উনদাভ।
এছাড়া গোলের খাতা খোলেন ফ্লোরিয়ান ভির্ৎস এবং জামাল মুসিয়ালাও। গত দুটি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল জার্মানিকে। সেই হতাশা কাটিয়ে এবার ভালো ফল করার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে ইউলিয়ান নাগেলসম্যানের দল। প্রস্তুতি ম্যাচে তাদের পারফরম্যান্স অন্তত সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে।

Social Plugin