প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনা ভবিষ্যতে আর ঘটবে না— এমন নিশ্চয়তা দিতে পারল না ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)। বরং তাদের বক্তব্য, সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হবে ঠিকই, কিন্তু প্রশ্নপত্র কোনও দিনই ফাঁস হবে না, এমন গ্যারান্টি দেওয়া সম্ভব নয়। এই মন্তব্যের পরই আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠিত হতে চলা নিট (স্নাতক) পরীক্ষার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সোমবার শিক্ষা সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এনটিএ-র মহাপরিচালক অভিষেক সিং এবং উচ্চশিক্ষা দপ্তরের সচিব বিনীত যোশী। রাজ্যসভার সাংসদ দিগ্বিজয় সিংয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে গত বছরের প্রশ্নপত্র ফাঁস বিতর্ক এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সূত্রের খবর, ভবিষ্যতে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে নিশ্চিত আশ্বাস দিতে না পারায় কমিটির সদস্যদের একাংশ বিস্ময় ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এরপরই এনটিএ-র মহাপরিচালকের হাতে ২০ দফা প্রশ্নের একটি তালিকা তুলে দেওয়া হয়। জানতে চাওয়া হয়েছে, ভবিষ্যতে আবার কোনও পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হলে তার দায়ভার কে নেবে। আগামী ১০ জুনের মধ্যে ওই প্রশ্নগুলির লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। তা না হলে তাঁর বিরুদ্ধে সংসদীয় স্বাধিকার ভঙ্গের অভিযোগ আনার বিষয়টিও বিবেচনা করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগের এক বৈঠকে অভিষেক সিং দাবি করেছিলেন, এনটিএ-র পক্ষ থেকে কোনও প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি। এমনকি তিনি ঘটনাটিকে ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস’ বলতেও রাজি হননি। তাঁর বক্তব্য ছিল, সেটি ছিল পরীক্ষা সংক্রান্ত ‘অসদাচরণ’ বা ‘অনিয়ম’।
সেই কারণেই এবার কমিটির প্রশ্নতালিকায় বিশেষভাবে জানতে চাওয়া হয়েছে, এনটিএ-র মতে ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস’-এর সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা কী। ২০২৪ সালের নিট পরীক্ষায় ওঠা অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে সিবিআই তদন্তের বাইরে সংস্থাটি নিজস্ব কোনও অনুসন্ধান চালিয়েছে কি না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
শুধু পরীক্ষা নয়, এনটিএ-র আর্থিক বিষয়ও খতিয়ে দেখতে চাইছে সংসদীয় কমিটি। ২০১৭ সাল থেকে সংস্থার আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব আগামী ১০ জুনের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছে। উদ্বৃত্ত অর্থ কোথায় এবং কীভাবে ব্যয় করা হয়েছে, সেই তথ্যও চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, রাধাকৃষ্ণন কমিটির ১০১টি সুপারিশের পর এনটিএ কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তার বিস্তারিত রিপোর্টও জমা দিতে হবে।
প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত বিশেষজ্ঞদের কোনও কোচিং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পর্ক রয়েছে কি না, সেই বিষয়েও স্পষ্ট তথ্য চেয়েছে কমিটি।
বৈঠকে বিজেপি সাংসদ বাঁশুরি স্বরাজও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলেন বলে জানা গিয়েছে। তিনি জানতে চান, কোচিং সেন্টারগুলির হাতে আগাম প্রশ্নপত্র পৌঁছে যাওয়ার সম্ভাবনা রুখতে এনটিএ কী ব্যবস্থা নিয়েছে। পাশাপাশি, গ্রামীণ ও দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে পরীক্ষাকেন্দ্রগুলিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কী বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তাও জানতে চান তিনি।
এর জবাবে অভিষেক সিং জানান, প্রতিটি রাজ্যের প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে নিট পরীক্ষা কলম-কাগজে নেওয়া হবে নাকি সম্পূর্ণ কম্পিউটারভিত্তিক পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচালিত হবে, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চশিক্ষা দপ্তর তিন সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে। সেই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই শীঘ্রই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Social Plugin