অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মে বিস্তর তথ্যের চাহিদা, আবেদন করতে লাগবে আধার থেকে জমির কাগজ— কী কী দিতে হবে জেনে নিন


 অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য আবেদনপত্র প্রকাশ করল রাজ্য সরকার। মোট ১১ পাতার এই ফর্মে আবেদনকারী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নানা ব্যক্তিগত এবং আর্থিক তথ্য চাওয়া হয়েছে। আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ব্যাঙ্কের তথ্য থেকে শুরু করে জমিজমার নথি— একাধিক কাগজপত্র জমা না দিলে এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে না। সরকার জানিয়েছে, যোগ্য মহিলাদের প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই ফর্ম প্রকাশ করেন। তিনি জানান, নির্দিষ্ট সরকারি ওয়েবসাইটে ফর্ম পাওয়া যাচ্ছে এবং তা অনলাইন ও অফলাইন— দু’ভাবেই জমা দেওয়া যাবে। যাঁরা নিজেরা ফর্ম পূরণ করতে পারবেন না, তাঁদের সাহায্যের জন্য সরকারি কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সহযোগিতা করবেন। প্রয়োজনে বিধায়কদেরও এই কাজে যুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধু অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা দেওয়ার জন্যই নয়, ভবিষ্যতে অন্যান্য সরকারি প্রকল্পেও নাগরিকদের অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে এই ফর্মে দেওয়া তথ্য ব্যবহার করা হতে পারে। সেই কারণেই এত বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে দাবি সরকারের।

ফর্মের প্রথম অংশেই আবেদনকারীর পরিবারের প্রধানের নাম, জন্মতারিখ, ঠিকানা, আধার নম্বর এবং আধারের সঙ্গে যুক্ত মোবাইল নম্বর দিতে হবে। পাশাপাশি পরিবারের অন্য সদস্যদেরও একই ধরনের তথ্য এবং পরিবারের প্রধানের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক উল্লেখ করতে হবে। পরিবারের প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বরও জমা দিতে হবে, এবং সেই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার সংযুক্ত থাকা বাধ্যতামূলক।

এ ছাড়া প্রত্যেক সদস্যের ভোটার কার্ড নম্বর, বিধানসভা কেন্দ্র এবং পার্ট নম্বরও চাওয়া হয়েছে। ডিজিটাল রেশন কার্ড থাকলে তার বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে। আবেদনকারীর বাড়ি পাকা না কাঁচা, কতটা জমি রয়েছে, জমির মিউটেশন বা রেজিস্ট্রেশনের নথি আছে কি না— সবই জানাতে হবে। পরিবারের কারও চার চাকার গাড়ি থাকলেও তা উল্লেখ করতে হবে ফর্মে।

সরকার আরও জানতে চেয়েছে আবেদনকারী পরিবার ইতিমধ্যেই অন্য কোনও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছে কি না, কোনও স্বাস্থ্যবিমা রয়েছে কি না। পরিবারের সদস্যদের প্যান নম্বরও দিতে হবে। পাশাপাশি প্রত্যেকের পেশা কী, তার প্রমাণপত্র-সহ উল্লেখ করতে হবে।

শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে এই ফর্মের মাধ্যমে। পরিবারের যাঁরা পড়াশোনা করেছেন, তাঁদের সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতার নথি জমা দিতে হবে। পরিবারের বার্ষিক আয় কত, সেটাও জানাতে হবে। এর পাশাপাশি সিএএ-র অধীনে নাগরিকত্বের আবেদন করা হয়েছে কি না, স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড বা অন্য সরকারি কার্ডের সুবিধা নেওয়া হয়েছে কি না, এসআইআর-এ কারও নাম বাদ পড়েছে কি না— এমন নানা প্রশ্নও রাখা হয়েছে ফর্মে। এমনকি পরিবারের শিশুদের স্কুলের নাম এবং টীকাকরণের তথ্যও জানতে চাওয়া হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী ১ জুন থেকে পরবর্তী তিন মাস ধরে আবেদন প্রক্রিয়া চলবে। তাই এখনই তাড়াহুড়ো করার প্রয়োজন নেই। তবে অনেকেরই মত, এত বিশদ তথ্য ও নথি একসঙ্গে জোগাড় করে ফর্ম পূরণ করা সাধারণ মানুষের পক্ষে সহজ হবে না। বিশেষ করে গ্রামের বহু মানুষ বা প্রবীণ নাগরিক সমস্যায় পড়তে পারেন। সেই কারণে সরকারি কর্মীদের সরাসরি সহায়তার প্রয়োজন পড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।